শীতের শুরুতেই রাজধানী ঢাকায় গ্যাসের সঙ্কট নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) তুরাগ নদীর নিচে প্রধান পাইপ লাইনে লিকেজের কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ স্থগিত হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে মিলিয়ে এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের সরবরাহে ব্যাঘাত এবং দাম বৃদ্ধির খবর পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাইপলাইনের সমস্যা, শীতের চাপ এবং এলপিজি সঙ্কট মিলিতভাবে নগরবাসীর গৃহস্থালিতে অস্বাভাবিক চাপ তৈরি করছে।
এই পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে কিছু ব্যবসায়ী বাড়তি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছেন। নগরবাসীর আগ্রহ এখন বৈদ্যুতিক রান্নার যন্ত্র যেমন ইনডাকশন চুলা, ইনভার্টার চুলা, ইলেকট্রিক কেটলি, রাইস কুকার ও রুম হিটারের দিকে বেড়েছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার এলাকায় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক শোরুম ঘুরে দেখা গেছে, চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রেতারা প্রায়ই স্টক শেষ হওয়ায় পণ্য না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
নিচের টেবিলে লক্ষ্মীবাজারের কয়েকটি জনপ্রিয় পণ্যের দাম এবং চাহিদার পরিস্থিতি উপস্থাপন করা হলো:
| শোরুম / ব্র্যান্ড | পণ্য | দাম (টাকা) | চাহিদা পরিস্থিতি |
|---|---|---|---|
| আরএফএল ‘বেস্ট বাই’ | ভিশন ইনডাকশন চুলা | ৩,৭৫০ | চাহিদা বৃদ্ধি, স্টক কম |
| ইনফ্রারেড চুলা | ৪,১০০ | স্টক সীমিত | |
| রাইস কুকার | ৩,৭৭০+ | সাধারণ মাসিক বিক্রির চেয়ে শতাধিক বিক্রি | |
| ইলেকট্রিক কেটলি | ২,৩৯০ | চাহিদা বৃদ্ধি | |
| রুম হিটার | ৩,৬০০ | স্টক আউট | |
| বেঙ্গল গ্রুপ ‘হ্যাপি মার্ট’ | গাজী ইনভার্টার চুলা | ৮,৪০০ | বিক্রি দ্বিগুণ |
| ইনডাকশন চুলা | ৪,৮০০ | চাহিদা বৃদ্ধি | |
| র্যাং গস ই-মার্ট | হ্যাভেলস ইনডাকশন চুলা | ৫,৮০০ | চাহিদা বেশি |
| মিয়াকো রুম হিটার | ৫,০০০+ | স্টক নেই | |
| প্যানাসনিক রাইস কুকার | ৬,৫০০ | চাহিদা আছে |
পুরান ঢাকার চায়ের দোকানগুলোতেও গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। শাঁখারীবাজার মোর সংলগ্ন একটি দোকানের বিক্রেতা সবুজ জানিয়েছেন, “গ্যাস সহজলভ্য নয়, আবার দামও বেশি। তাই ব্যবসা চালাতে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করছি।”
নিম্ন আদালত এলাকার বাসিন্দা ও রান্না ব্যবসায়ী রাবেয়া খানম বলেন, “টিভিতে গ্যাসের দাম দেখানো হয় ১,৩০০ টাকা, কিনতে গেলে দাম ২,৭০০ টাকা। তাও সরবরাহ সীমিত। রান্না করতে প্রচুর অসুবিধা হচ্ছে।”
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই শীতের সময়ে গ্যাসের চাপ ও সঙ্কট বাড়তে থাকলে বৈদ্যুতিক রান্নার যন্ত্রের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে। এ অবস্থায় ক্রেতাদের জন্য স্টক ও সাশ্রয়ী দামের পণ্য নিশ্চিত করা জরুরি।
