গোয়ালঘরে মিলল ভারতীয় চোরাচালানের পণ্য, পালালেন যুবদল নেতা

ফেনীর পরশুরামে কাজী রবিউল হোসেন জিহাদ নামে এক যুবদল নেতার বাড়ি থেকে ভারতীয় চোরাচালানের পণ্য উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে পরশুরাম মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল হাকিম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে পরশুরামের চিথলিয়া ইউনিয়নের পাগলীরকুল গ্রামের জিহাদের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে গোয়ালঘর থেকে বস্তা ভর্তি ভারতীয় থ্রি-পিসসহ চোরাচালানের বিভিন্ন পণ্য উদ্ধার করা হয়।

অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে যুবদল নেতা জিহাদ বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। বর্তমানে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের ঘটনায় জিহাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অভিযুক্ত জিহাদ উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের পাগলীরকুল গ্রামের কাজী জামাল উদ্দিনের ছেলে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তিনি ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।

পরশুরাম উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামসুল আলম শাকিল বলেন, “যদি আমাদের কেউ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।” তিনি আরও জানান, যুবদল নেতাদের মধ্যে দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

তথ্যবিস্তারিত
ঘটনা স্থানপাগলীরকুল, চিথলিয়া ইউনিয়ন, পরশুরাম, ফেনী
অভিযুক্তকাজী রবিউল হোসেন জিহাদ, যুবদল যুগ্ম আহ্বায়ক
তার পিতার নামকাজী জামাল উদ্দিন
অভিযান তারিখ ও সময়৬ নভেম্বর, রাত ২টা
উদ্ধারকৃত পণ্যভারতীয় থ্রি-পিসসহ চোরাচালানের বিভিন্ন পণ্য
পুলিশ কর্মকাণ্ডবিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত
স্থানীয় যুবদল মন্তব্যসাংগঠনিক ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন, তদন্ত চলছে

পুলিশ জানায়, ভারতীয় চোরাচালানমূলক পণ্য অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করানো হয়। এই ধরনের অপরাধ রোধ করতে বিশেষ ক্ষমতা আইনের আওতায় অভিযান অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় প্রশাসনও বলেছে, চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাদের মধ্যে এই ধরনের অপরাধের ঘটনা সামাজিক ও রাজনৈতিক শৃঙ্খলার জন্য উদ্বেগজনক। যুব সমাজকে আইন মেনে চলার প্রতি উৎসাহিত করা ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা খুবই জরুরি।

পরশুরাম মডেল থানার পুলিশ সূত্রে আরও জানানো হয়, অভিযান চলাকালীন এলাকার সাধারণ মানুষকে নিরাপদে রাখা ও পণ্যের সঠিক হিসাব সংরক্ষণ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার না হওয়া অভিযুক্তের সন্ধানে পুলিশ স্থানীয় ও অগ্রগতিপ্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করছে।