ভারতের পর্যটনসমৃদ্ধ রাজ্য গোয়ার উত্তরাঞ্চলে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রাত ১২টার পর এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। রোববার (৭ ডিসেম্বর) ভোরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত এবং স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। এ ঘটনায় গোয়াজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং দেশজুড়ে পর্যটন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে উত্তর গোয়ার আরপোরা এলাকার বাগা বিচ সংলগ্ন একটি জনপ্রিয় নাইটক্লাবে। ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’ নামের এই নাইটক্লাবটি গোয়ার অন্যতম ব্যস্ত ও আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে অবস্থিত। প্রতি সপ্তাহান্তে দেশ-বিদেশের বিপুল সংখ্যক পর্যটক এখানে বিনোদনের জন্য ভিড় জমান।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নাইটক্লাবটির রান্নাঘর থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। রান্নাঘরে থাকা একটি গ্যাস সিলিন্ডার হঠাৎ বিস্ফোরিত হলে আগুন দ্রুত আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। রাতের সময় হওয়ায় ক্লাবের ভেতরে কর্মচারী ও কিছু পর্যটক উপস্থিত ছিলেন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অনেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ পাননি বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে দমকল বিভাগের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে রোববার ভোরের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
রাজ্য পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার হওয়া অধিকাংশ মরদেহ রান্নাঘর সংলগ্ন এলাকা থেকে পাওয়া গেছে। এ কারণে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিহতদের বড় একটি অংশ ক্লাবের কর্মচারী ছিলেন, যারা আগুন লাগার সময় রান্নাঘরে বা কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ ছাড়া ৩ থেকে ৪ জন পর্যটকের মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলমান রয়েছে।
রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক আলোক কুমার বলেন, “আগুন মূলত ক্লাবের প্রথম তলা ও রান্নাঘরেই সীমাবদ্ধ ছিল। সেখান থেকেই অধিকাংশ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় ক্লাবটিতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ভয়াবহ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত। তিনি বলেন, “আজ গোয়ার মানুষের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক দিন। এই দুর্ঘটনায় আমরা অমূল্য প্রাণ হারিয়েছি।” নিহতদের পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি একে রাজ্যের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বলে উল্লেখ করেন। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, রাজ্য সরকার ইতোমধ্যে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, গোয়ার মতো আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্রে এ ধরনের দুর্ঘটনা পর্যটন নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নতুন করে সামনে এনেছে। বিশেষ করে নাইটক্লাব, রেস্তোরাঁ ও বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, নিয়মিত অগ্নিনিরাপত্তা পরিদর্শন ও কর্মীদের প্রশিক্ষণ না থাকলে এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যায়।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর আশপাশের অন্যান্য বিনোদনকেন্দ্র ও নাইটক্লাবগুলোতেও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
নিম্নে অগ্নিকাণ্ড সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনা স্থান | আরপোরা, বাগা বিচ, উত্তর গোয়া |
| নাইটক্লাবের নাম | বার্চ বাই রোমিও লেন |
| ঘটনার সময় | ৬ ডিসেম্বর রাত ১২টার পর |
| নিহতের সংখ্যা | অন্তত ২৫ জন |
| সম্ভাব্য কারণ | রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ |
| অধিকাংশ নিহত | ক্লাবের কর্মচারী |
| আগুন নিয়ন্ত্রণ | ৭ ডিসেম্বর ভোরে |
| সরকারি পদক্ষেপ | তদন্তের নির্দেশ |
এই দুর্ঘটনা গোয়ার পর্যটন শিল্পে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি স্মরণ করিয়ে দেয়, বিনোদনের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারিত হলে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশাই এখন সবার।
