রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে নৌপরিবহণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের মির্জা রুহুল আমিন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পুলিশ বাহিনীকে এখন আর দমন-পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। অতীতের সেই ডাণ্ডা মারা কিংবা নির্বিচারে গুলি করার সংস্কৃতি থেকে বাহিনীকে সরিয়ে এনে একটি মানবিক ও জনবান্ধব পুলিশ হিসেবে গড়ে তোলাই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল লক্ষ্য।
Table of Contents
পুলিশের নতুন চরিত্র ও জনসম্পৃক্ততা
উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, প্রশাসন এখন কোনোভাবেই পুলিশকে সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হতে দেয় না। তিনি জনগণের প্রতি পুলিশের পাশে দাঁড়ানোর এবং তাদের সম্মান করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “পুলিশকে আপনারা শ্রদ্ধা জানাবেন, তারাও আপনাদের সেবা দেবে। আমরা চাই পুলিশ মানবিক হোক।” পুলিশের এই গুণগত রূপান্তর দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে সাধারণ মানুষের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জুলাই-আগস্টের ক্ষত ও গণভোটের আহ্বান
বিগত গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত নৃশংসতার কথা স্মরণ করে ড. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তরুণদের প্রাণহীন দেহ ভ্যানে স্তূপ করে পুড়িয়ে ফেলার মতো মর্মান্তিক দৃশ্য পুরো বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। শহীদদের সেই ত্যাগের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “সেই রক্তের সঙ্গে কেউ বেইমানি করবেন না।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ক্ষমতার অপব্যবহারকারী ‘হারকিউলিস’দের হাত থেকে দেশ বাঁচাতে হলে চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে।
উপদেষ্টার বক্তব্যের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ:
| আলোচনার বিষয় | মূল বার্তা ও লক্ষ্য |
| আইনশৃঙ্খলা | গুলি ও ডাণ্ডা মারার সংস্কৃতি বন্ধ; মানবিক পুলিশ গড়ার নির্দেশ। |
| গণভোট ও হ্যাঁ ভোট | গণতন্ত্রের সঠিক পরিবেশ পেতে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদানের গুরুত্ব। |
| বাজার মনিটরিং | সিন্ডিকেট ভাঙা হয়েছে; দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বিশেষ তদারকি সচল। |
| রাষ্ট্রীয় লক্ষ্য | ক্ষমতার স্বাদ নেওয়া নয়, বরং টেকসই সংস্কার নিশ্চিত করা। |
| ভবিষ্যৎ ঝুঁকি | সংস্কার না হলে পুনরায় বীভৎস অস্থিতিশীলতার ফেরার আশঙ্কা। |
রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা
জাতীয় পার্টির ‘না’ ভোটের প্রচারণার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও ভোটারদের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কোনো দল যদি জনস্বার্থের বিপরীতে অবস্থান নেয়, তবে ভোটাররাই ব্যালটের মাধ্যমে তাদের বিচার করবেন। ‘হ্যাঁ’ ভোটকে একটি ‘সেঞ্চুরি’ করার সুযোগ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, যারা ভবিষ্যতে একনায়কতন্ত্র কায়েম করতে চায়, তারাই সংস্কারের পথে বাধা দিচ্ছে এবং ‘না’ ভোটকে উসকে দিচ্ছে।
বাজার পরিস্থিতি ও মাফিয়া নির্মূল
উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে বাজারের বর্তমান স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বর্তমানে দেশে কোনো মাফিয়া নেই এবং শক্ত হাতে বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে গত রমজানে পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা থাকলেও কঠোর তদারকির কারণে তা সহনীয় ছিল। বর্তমানে দেশ কেমন চলছে, তা উপস্থিত সুধীজনদের কাছে জানতে চেয়ে তিনি তুলনামূলক বিচারের আহ্বান জানান।
উপসংহার
ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের এই বার্তাটি মূলত রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে জনগণের সমর্থন আদায়ের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। পুলিশের ইমেজ সংকট কাটানো এবং শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষার মধ্য দিয়ে তিনি একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন তুলে ধরেছেন। ঠাকুরগাঁও ত্যাগ করার আগে তিনি নীলফামারীর উদ্দেশ্যে রওনা দেন, যেখানে তাঁর আরও কর্মসূচি রয়েছে।
