রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে থেকে রহস্যজনকভাবে গ্রেপ্তার হওয়া ইনামে হামীমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (৫ জানুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই আদেশ প্রদান করেন। রিমান্ড শুনানির সময় নিজের কাছে একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) রাখার বিষয়ে আসামি হামীম যে অদ্ভুত যুক্তি দিয়েছেন, তা আদালত কক্ষের উপস্থিত সবার মধ্যে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। হামীম দাবি করেছেন, ব্যক্তিগত অনৈতিক কাজে নিজের আসল পরিচয় গোপন রাখতেই তিনি ভুয়া পরিচয়পত্রগুলো তৈরি করেছিলেন।
গত রবিবার দিবাগত রাত ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে গুলশানের ৮৬ নম্বর রোডে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করার সময় চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ) হামীমকে আটক করে। পরে খবর পেয়ে গুলশান থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেয়। তল্লাশিকালে তাঁর কাছ থেকে তিনটি ভিন্ন এনআইডি কার্ড এবং পাঁচটি ভিন্ন ব্যাংকের চেক বই উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে গুলশান থানায় প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির মামলা দায়ের করে।
নিচে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও আসামির দাবিগুলো সারণি আকারে উপস্থাপন করা হলো:
ইনামে হামীম গ্রেপ্তার ও মামলার তথ্যাবলি
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিস্তারিত বিবরণ |
| আসামির নাম | ইনামে হামীম |
| গ্রেপ্তারের সময় | ৫ জানুয়ারি, রাত ৩:৪০ মিনিট |
| উদ্ধারের স্থান | ৮৬ নম্বর রোড, গুলশান (বিএনপি কার্যালয় সংলগ্ন) |
| জব্দকৃত আলামত | ৩টি এনআইডি কার্ড ও ৫টি ব্যাংকের চেক বই |
| আদালতের আদেশ | ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর |
| আসামির দাবি | হোটেলে গার্লফ্রেন্ড নিয়ে যেতে ভুয়া এনআইডি ব্যবহার |
| তদন্তের মূল লক্ষ্য | জালিয়াতির উৎস ও নাশকতার পরিকল্পনা খতিয়ে দেখা |
রিমান্ড শুনানি চলাকালে আদালত যখন তিনটি এনআইডি রাখার কারণ জানতে চান, তখন হামীম বলেন, “একটি আমার আসল কার্ড। আর বাকি দুটি প্রেমিকা নিয়ে হোটেলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি করেছিলাম যাতে পরিচয় গোপন থাকে।” তিনি আরও দাবি করেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেখার গভীর আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি ওই কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করছিলেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, “তারেক রহমানকে দেখার ইচ্ছা থাকলে কেউ গভীর রাতে জাল এনআইডি ও চেক বই নিয়ে ওত পেতে থাকে না।”
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই শেখ সাইফুল ইসলাম তাঁর রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নাশকতা বা রাষ্ট্রবিরোধী কাজে লিপ্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে আসামি ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন বলে প্রবল সন্দেহ রয়েছে। নিজের ছবি ব্যবহার করে ভিন্ন ভিন্ন তথ্যে এনআইডি তৈরি করা একটি গুরুতর অপরাধ। এই জালিয়াতির পেছনে কোনো চক্র সক্রিয় কি না এবং ওই গভীর রাতে চেক বই নিয়ে তাঁর অবস্থানের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, তা উদ্ঘাটনে আসামিকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
