রাজধানীর গুলশানে এক অসহায় ভবঘুরে নারীকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে গায়ে পানি ঢেলে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। এই অমানবিক হেনস্তার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর পুলিশ কোনো অভিযোগের অপেক্ষা না করেই স্বপ্রণোদিত হয়ে অভিযান চালায় এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। রোববার (৫ জানুয়ারি) গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, গত শুক্রবার সকালে গুলশান নর্দা এলাকার ‘মারকাজুত তা’লীম আল ইসলামী মাদ্রাসা’র সামনে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, ওই নারী চুরির উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করেছিলেন। তবে কোনো প্রমাণ বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই অভিযুক্তরা তাঁকে আটক করে সড়কের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে ফেলে। এরপর শীতের সকালে জনসম্মুখে তাঁর গায়ে ঠান্ডা পানি ঢেলে চরম শারীরিক ও মানসিক লাঞ্ছনা করা হয়।
ওসি রাকিবুল হাসান জানান, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর তাঁরা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পাঁচজনকে শনাক্ত করেন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে তিনজনই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং তাঁরা সবাই সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী নারী ভবঘুরে হওয়ার কারণে কেউ মামলা করতে না এলেও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত করা হবে।
ঘটনার প্রধান দিকগুলো এবং বর্তমান আইনি পরিস্থিতি নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো:
গুলশান নর্দায় নারী নির্যাতনের ঘটনার বিস্তারিত চিত্র
| বিষয়ের বিবরণ | তথ্যের বিস্তারিত বিবরণ |
| নির্যাতনের ধরন | বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে গায়ে পানি ঢেলে অবমাননা। |
| ঘটনাস্থল | নর্দা এলাকা, গুলশান; মারকাজুত তা’লীম আল ইসলামী মাদ্রাসার সম্মুখে। |
| আটককৃতদের পরিচয় | মারকাজুত তা’লীম আল ইসলামী মাদ্রাসার ৫ জন শিক্ষার্থী। |
| আইনি অবস্থা | পুলিশ কর্তৃক ৫ জন গ্রেপ্তার (৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্কসহ)। |
| পুলিশি পদক্ষেপ | সিসিটিভি ফুটেজ দেখে স্বপ্রণোদিত হয়ে অভিযান ও গ্রেপ্তার। |
| মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি | চুরির সন্দেহে ওই নারীকে আটক করা হয়েছিল। |
মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুরির অভিযোগ থাকলেও কাউকে এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে নির্যাতন করার অধিকার কারও নেই। বিশেষ করে একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এমন অমানবিক আচরণ সমাজের নৈতিক স্খলনের বিষয়টিই সামনে নিয়ে আসে। অনেক নেটিজেন ভিডিওটি শেয়ার করে দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বর্তমানে পুলিশ গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। যেহেতু আটককৃতদের মধ্যে তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক, তাই তাঁদের ক্ষেত্রে শিশু আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে। পুলিশ বর্তমানে ভুক্তভোগী নারীর সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে যাতে তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ করা যায় এবং তাঁকে প্রয়োজনীয় আইনি ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হয়।
