প্রায় দুই দশক পর আবারও মিশরের গিজার পিরামিডে মঞ্চ মাতাতে ফিরছেন বিশ্বখ্যাত কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা। ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই এক রাতের বিশেষ কনসার্টকে ঘিরে ইতোমধ্যেই বিশ্ব সংগীতাঙ্গনে তুমুল আগ্রহ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ইউনেস্কো স্বীকৃত ঐতিহাসিক নিদর্শন গিজার পিরামিড-এর পটভূমিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি শুধু একটি কনসার্ট নয়, বরং ইতিহাস ও আধুনিক সংগীতের এক অনন্য সংমিশ্রণ হয়ে উঠতে যাচ্ছে।
২০০৭ সালে তার ‘মৌখিক স্থিরকরণ’ ট্যুরের অংশ হিসেবে একই স্থানে শেষবার পারফর্ম করেছিলেন শাকিরা। সেই স্মরণীয় আয়োজন মধ্যপ্রাচ্যের কনসার্ট ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। দীর্ঘ ১৯ বছর পর তার এই প্রত্যাবর্তন ভক্তদের জন্য এক আবেগঘন মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, মিশরসহ মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার দর্শক এই কনসার্টে অংশ নিতে গিজায় সমবেত হবেন।
শাকিরার বর্তমান বিশ্বভ্রমণ ‘লাস মুজেরেস ইয়া নো লোরান ওয়ার্ল্ড ট্যুর’ ইতোমধ্যেই ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। তার সাম্প্রতিক অ্যালবাম লাস মুজেরেস ইয়া নো লোরান–এর নামানুসারে এই ট্যুরটি লাতিন আমেরিকা, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হয়ে বিপুল সাড়া ফেলেছে। টিকিট বিক্রি ও দর্শক উপস্থিতির দিক থেকে এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সফল নারী শিল্পীর ট্যুর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই কনসার্টের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও। হাজার বছরের পুরোনো সভ্যতার নিদর্শনের সামনে দাঁড়িয়ে আধুনিক পপ সংগীত পরিবেশন করার মাধ্যমে শাকিরা এক অনন্য সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন তৈরি করছেন। সংগীতের সর্বজনীন ভাষা কীভাবে সময় ও ভৌগোলিক সীমা অতিক্রম করে মানুষের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে—এই আয়োজন তার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভক্তরা টিকিট সংগ্রহ, ভ্রমণ পরিকল্পনা এবং কনসার্ট অভিজ্ঞতা নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। অনেকেই একে ‘জীবনে একবার পাওয়া যায় এমন অভিজ্ঞতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।
নিচে কনসার্ট সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| শিল্পী | Shakira |
| স্থান | গিজার পিরামিড, মিশর |
| তারিখ | ৭ এপ্রিল ২০২৬ |
| ট্যুরের নাম | Las Mujeres Ya No Lloran World Tour |
| শেষ পারফরম্যান্স (গিজা) | ২০০৭ |
| সম্ভাব্য দর্শক | হাজার হাজার আন্তর্জাতিক ভক্ত |
সব মিলিয়ে, গিজার পিরামিডে শাকিরার এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি সংগীতানুষ্ঠান নয়—এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং বৈশ্বিক বিনোদনের এক অসাধারণ মিলনমেলা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
