গায়ক হায়দার হোসেনের মৃত্যুর খবর গুজব: শিল্পী নিজেই সুস্থতার কথা জানালেন

শনিবার সন্ধ্যা থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশের বরেণ্য সংগীতশিল্পী হায়দার হোসেনকে নিয়ে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও ভিত্তিহীন সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ, ব্যক্তিগত প্রোফাইল এবং নামসর্বস্ব কিছু অনলাইন পোর্টালের বরাতে দাবি করা হয়—‘ফাইসা গেছি’ খ্যাত এই গুণী শিল্পী পরলোকগমন করেছেন। তবে গভীর রাতেই এই খবরকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন শিল্পী স্বয়ং। তিনি বর্তমানে সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।

গুজব নিয়ে শিল্পীর প্রতিক্রিয়া

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই অনভিপ্রেত সংবাদে তীব্র বিরক্তি ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন হায়দার হোসেন। শনিবার রাতে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “সন্ধ্যা থেকে একটানা ফোন আসছে, আমি ফোন রাখতে পারছি না। কী যে এক ঝামেলায় পড়েছি! আমি সুস্থ আছি, ভালো আছি।” মানুষের মৃত্যু নিয়ে এমন সংবেদনশীল বিষয়ে যারা গুজব ছড়ায়, তাদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও যোগ করেন, “এ ধরনের কাজ মোটেও উচিত নয়। মৃত্যু নিয়ে এই ধরনের মিথ্যাচার কারো কাম্য হতে পারে না।”

শারীরিক অসুস্থতা ও চিকিৎসার ইতিবৃত্ত

হায়দার হোসেনের মৃত্যুর গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পেছনে তাঁর পূর্বের কিছু শারীরিক অসুস্থতার ইতিহাস কাজ করে থাকতে পারে। গত কয়েক বছরে তিনি একাধিকবার হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। নিচে তাঁর উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্যগত সমস্যার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হলো:

সময়কালঘটনার বিবরণচিকিৎসার ধরন
২০১৬ সালযুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে প্রথমবার হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন।হৃৎপিণ্ডে দুটি রিং (স্টেন্ট) পরানো হয়।
২০২২ (জুন)বাংলাদেশে থাকাকালীন পুনরায় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন।ঢাকার হাসপাতালে আরও একটি রিং পরানো হয়।
২০২৬ (বর্তমান)শিল্পীর মৃত্যুর খবর গুজব হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে।শিল্পী বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।

সংগীত ক্যারিয়ার ও বর্ণাঢ্য জীবন

হায়দার হোসেন কেবল একজন গায়ক নন, তিনি একাধারে গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক। বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের স্বর্ণালি যুগের অন্যতম সাক্ষী তিনি। জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘উইনিং’-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন তিনি এবং ব্যান্ডের নামটিও ছিল তাঁরই দেওয়া। তাঁর গাওয়া ‘মন কী যে চায় বলো’ আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে দোলা দেয়।

সংগীতে থিতু হওয়ার আগে তিনি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে সুরের প্রতি অমোঘ টানে ১৯৭৯ সাল থেকে পেশাগতভাবে সংগীতে যুক্ত হন। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি কিংবদন্তি সুরকার আলম খান এবং পপসম্রাট আজম খানের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। পরবর্তীকালে তাঁর একক অ্যালবাম ও গানগুলো দেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষ করে ‘৩০ বছর পরেও আমি স্বাধীনতাটাকে খুঁজছি’ এবং ‘আমি ফাইসা গেছি’ গানগুলো তাঁকে সাধারণ মানুষের অতি কাছের শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

গুজব ছড়ানো রোধে আমাদের সবার সচেতন হওয়া প্রয়োজন। যাচাই না করে কোনো সংবাদ শেয়ার করা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়। শিল্পী হায়দার হোসেন দীর্ঘকাল সুস্থ থেকে আমাদের আরও অনেক কালজয়ী গান উপহার দেবেন—এমনটাই প্রত্যাশা তাঁর অগণিত ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের।