ফতুল্লায় গানের অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে যুবক খুন

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গানের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর বাড়ি ফেরার পথে সুমন খলিফা (৩২) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকালে ফতুল্লা থানাধীন মধ্য নরসিংপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়ির পাশের সড়ক থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোরে স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তার পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরিচয় শনাক্ত করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিক আঘাত করে সুমন খলিফাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলতে রাজি হয়নি পুলিশ।

নিহত সুমন খলিফা বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার বাসিন্দা মন্টু খলিফার ছেলে। তিনি নারায়ণগঞ্জ এলাকায় বসবাস করতেন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে যাতায়াত করতেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। তাঁর স্ত্রী সোনিয়া আক্তার (২৮) একজন সংগীতশিল্পী। তিনি জানান, রবিবার রাতে স্বামী-স্ত্রী দুজনই ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকায় একটি গানের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যান। অনুষ্ঠান চলাকালে রাতের কোনো এক সময় সুমন বাইরে বের হন। এরপর আর তিনি ভেতরে ফেরেননি।

সোনিয়া আক্তার আরও বলেন, “অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর আমি বাইরে এসে দেখি সুমন নেই। পরে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাতভর খোঁজাখুঁজি করি। মোবাইল ফোনেও কোনো সংযোগ পাওয়া যাচ্ছিল না।” দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়লেও কেউ কল্পনাও করেননি যে এমন ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে। সোমবার সকালে পুলিশের মাধ্যমে স্বামীর মৃত্যুসংবাদ পান তিনি।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতের স্বজনরা নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে তাঁদের কান্না ও আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরিবার দাবি করছে, সুমনের সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল কি না, তা তারা জানেন না। তবে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে তাঁদের ধারণা।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) হাসিনুজ্জামান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, “হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পেছনের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, মোবাইল ফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণ এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থলটি তুলনামূলক নির্জন হওয়ায় দুর্বৃত্তরা সুযোগ নিয়ে হামলা চালাতে পারে। এটি ছিনতাইজনিত হত্যাকাণ্ড নাকি পূর্বশত্রুতার জেরে সংঘটিত—সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।

এলাকাবাসীর মতে, ফতুল্লার কিছু এলাকায় রাতের বেলায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ও নিয়মিত টহলের অভাব রয়েছে। ফলে অপরাধীরা সহজেই অপরাধ সংঘটিত করে পালিয়ে যেতে পারছে। তাঁরা দ্রুত নিরাপত্তা জোরদার ও অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।