গাজীপুরে ‘প্রক্সি হাজিরা’ কাণ্ডে মামলা, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে ব্যবস্থা

গাজীপুরের আদালতে অন্যের (প্রক্সি) মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে গাজীপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ (বন আদালত) এর বেঞ্চ সহকারী রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় কালিয়াকৈরের মোথাজুরি গ্রামের ছাত্তার মিয়া এবং একই এলাকার সাইফুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ছাত্তার মিয়ার আইনজীবী হাজী শ্যামল সরকারের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে, ৮ ডিসেম্বর দৈনিক কালের কণ্ঠ অনলাইনে ‘গাজীপুর প্রক্সি হাজিরা দিতে গিয়ে যুবক’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদে উল্লেখিত হয়, বন আদালতে প্রক্সি হাজিরা দেওয়ার ঘটনায় ভ্রান্তি ধরা পড়ে।

আদালত সূত্র জানায়, গাজীপুরের কালিয়াকৈরের কাঁচাঘাটা বিট এলাকায় সরকারি বনভূমি থেকে গাছ কাটার অভিযোগে গত ৯ সেপ্টেম্বর ছাত্তার মিয়া ও ৮–১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায় হাজিরা দিতে আসা ছাত্তার মিয়ার পরিবর্তে ৭ ডিসেম্বর একই এলাকার সাইফুল ইসলাম উপস্থিত হন। মামলার শুনানিতে তাদের আইনজীবী হাজী শ্যামল সরকার জামিনের আবেদন করেন।

বিচারক সাইফুল ইসলামকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ বায়োমেট্রিক পরীক্ষার মাধ্যমে জানতে পারেন, কারাগারে থাকা সাইফুল আসলে ছাত্তার মিয়া নন। বিষয়টি লিখিতভাবে মঙ্গলবার আদালতে জানানো হয়।

বিষয়টি আরও স্পষ্ট করতে নিচের টেবিলটি দেখানো হলো:

বিষয়বিস্তারিত তথ্য
মামলার তারিখ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
আদালতগাজীপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ (বন আদালত)
বাদীসহকারী রফিকুল ইসলাম
আসামিছাত্তার মিয়া, সাইফুল ইসলাম
আইনজীবীহাজী শ্যামল সরকার
অভিযোগসরকারি বনভূমি থেকে গাছ কাটা ও প্রক্সি হাজিরা দেওয়া
ঘটনার সময়কালমূল ঘটনা: ৯ সেপ্টেম্বর, প্রক্সি হাজিরা: ৭ ডিসেম্বর
বিশেষ আদেশআইনজীবীকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে

 

এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও আদালত থেকে প্রমাণ সংগ্রহ চলছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রক্সি হাজিরা দেওয়ার ঘটনা গুরুতর আইন লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে, এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এদিকে, স্থানীয়রা এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। অনেকেই মনে করছেন, ‘প্রক্সি হাজিরা’ কেবল ব্যক্তিগত নয়, সরকারি সম্পদের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলার দিক থেকেও গুরুত্বপুর্ণ বিষয়।