গাজীপুরে নারী ব্যবসায়ী কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার

গাজীপুর মহানগরের গাছা এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে এক নারী ব্যবসায়ীকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রধান আসামি, সাবেক ছাত্রদল নেতা আশিক ইসলাম ওরফে স্বপন (২৭)কে শনিবার রাতে ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহত ব্যবসায়ীর নাম রানু বেগম (৪০)। তিনি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানার মাইজবাগ গ্রামের মো. হিরোনের স্ত্রী। গাজীপুর মহানগরের পশ্চিম কলমেশ্বর এলাকায় ভাড়া থাকতেন রানু বেগম এবং স্থানীয় দুলাল মার্কেটে ‘রানী ফ্যাশন গ্যালারি’ নামের একটি কাপড়ের দোকান চালাতেন।

গ্রেপ্তার আশিক ইসলাম গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের গাছা থানার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি কলমেশ্বর এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রানু বেগম কাপড়ের ব্যবসার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে সুদের ভিত্তিতে অর্থ লেনদেন করতেন। পাওনা টাকা নিয়ে তিনি স্থানীয় মুদিদোকানি নজরুল ইসলাম এবং তাঁর ছেলে আশিক ইসলামের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছিলেন।

ঘটনার দিন সকালে, রানু বেগম আশিকের পিতাকে গালাগাল করেন। বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হয়ে আশিক ধারালো ছুরি নিয়ে রানুর ওপর হামলা চালান। এসময় রানুর ছেলে হৃদয় মিয়া ও নিকট প্রতিবেশী ওসমান হোসেন তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলেও তারা দুজনকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় রানু ও আহত ব্যক্তিদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে রানু বেগম মৃত্যুবরণ করেন। পরে পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। রানুর ছেলে হৃদয় মিয়া বাদী হয়ে হত্যার মামলা দায়ের করেন।

পরিস্থিতি ও ঘটনায় যুক্ত প্রধান ব্যক্তি গ্রেপ্তার হওয়ার তথ্য সংক্ষেপে নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:

নামবয়সসম্পর্কপদবি/সংগঠনঅবস্থান/ঠিকানা
আশিক ইসলাম (স্বপন)২৭নজরুল ইসলামের ছেলেসাবেক ছাত্রদল নেতাকলমেশ্বর, গাজীপুর
রানু বেগম৪০মাইজবাগ, ময়মনসিংহব্যবসায়ীপশ্চিম কলমেশ্বর, গাজীপুর
নজরুল ইসলামআশিকের বাবামুদিদোকানিকলমেশ্বর, গাজীপুর
হৃদয় মিয়ারানুর ছেলে
ওসমান হোসেনস্থানীয় প্রতিবেশী

গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রোহানুজ্জামান শুক্কুর বলেন, “আমরা কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দিই না। আশিক যদি অপরাধে জড়িত থাকেন, তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। তিনি বর্তমানে সংগঠনের কার্যক্রমে যুক্ত নন।”

গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলমান রয়েছে।