গাজীপুরের পূবাইল খোরাইদ জয়নগর এলাকায় এক নারীর বিরুদ্ধে ঘুমন্ত স্বামীকে গুরুতর আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার ভোর ৫টার দিকে পারিবারিক কলহের জেরে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা অভিযুক্ত নারীকে আটক করে পুলিশকে হস্তান্তর করেছে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মো. আকাশ (২১) নামের এক যুবককে তার স্ত্রী ধারালো ব্লেড দিয়ে আঘাত করে। আঘাতের সময় আকাশ ঘুমাচ্ছিলেন। চিৎকারে প্রতিবেশীরা দ্রুত দৌড়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অভিযুক্ত নারীকে স্থানীয়রা আটক করে মারধর করলেও পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাকে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পর গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা মো. খালিদ হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, “ভুক্তভোগী যুবক বর্তমানে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাধীন আছেন। অভিযুক্ত স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, পারিবারিক কলহের ঘটনা ঘটেছে, তবে মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এই এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা বেড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক কলহ এবং মানসিক চাপ কখনো কখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে শারীরিক সহিংসতার ঘটনায় রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে, তরুণ দম্পতিদের মধ্যে সম্পর্কের সমস্যা এবং মানসিক চাপ মিলে এমন ধরনের আঘাতের ঘটনা ঘটতে পারে।
পুলিশ জানাচ্ছে, এই ঘটনায় অভিযুক্ত নারীর বিরুদ্ধে সঠিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভুক্তভোগী যুবকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া, স্থানীয় প্রশাসন এবং সামাজিক সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| ভুক্তভোগী | মো. আকাশ, ২১ বছর |
| অবস্থান | গাজীপুর সিটি করপোরেশন, পূবাইল খোরাইদ জয়নগর |
| ঘটনা সময় | রবিবার, ভোর ৫টা |
| আহত | হ্যাঁ, গুরুতর জখম |
| হাসপাতালে ভর্তি | গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
| অভিযুক্ত | স্ত্রী, পুলিশ হেফাজতে |
| আইনি প্রক্রিয়া | তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ চলমান |
পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, পরিবারিক কলহে সহিংসতার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় সচেতনতা ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা জরুরি। চিকিৎসকরা আহত যুবককে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন এবং শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে সমাজে পারিবারিক সহিংসতার ভয়াবহতা পুনরায়浮 উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিবারে নিয়মিত পরামর্শ ও মানসিক সমর্থন ব্যবস্থা থাকলে এ ধরনের অঘটন কমানো সম্ভব।
