গাজীপুরে গৃহবধুর হত্যায় প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

গাজীপুরের জয়দেবপুরে তালাকপ্রাপ্ত গৃহবধু রিশমা খাতুন হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত মাসুদ রানাকে র‍্যাব-১ কুড়িগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে। হত্যার ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই গ্রেপ্তার অভিযান সম্পন্ন হওয়া স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপ এবং দক্ষতার পরিচায়ক।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ

হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বুধবার সকাল জয়দেবপুর থানার বিকেবাড়ি এলাকায়। নিহত রিশমা খাতুন (৩০) তার কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন, তখন মাসুদ রানা—যিনি তার পুনঃবিবাহ প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত ছিলেন—তার ওপর ধারালো চাকু দিয়ে আক্রমণ চালান। গুরুতর আহত অবস্থায় ভিকটিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে পথে তার মৃত্যু হয়। সহকর্মীদের চিৎকারে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে আত্মগোপনে চলে যান।

নিহতের বাবা মো. আব্দুল হাকিম জয়দেবপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

র‍্যাবের অভিযান ও গ্রেপ্তার

র‍্যাব-১ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক শাহ আলম জানান, গ্রেপ্তারকৃত মাসুদ রানা কুড়িগ্রামের অনন্তপুর গ্রামের ওমর মুন্সীর ছেলে। র‍্যাবের পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের আভিযানিক দল বৃহস্পতিবার রাত কুড়িগ্রামের উলিপুর থানার জলংগারকুটি বুড়াবুড়ি এলাকা থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে জয়দেবপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র‍্যাব জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে অন্য কোনো সহযোগী থাকলে তাদের শনাক্ত করার জন্য অনুসন্ধান চলছে।

হত্যাকাণ্ড ও গ্রেপ্তারের সংক্ষিপ্ত তথ্য

বিষয়বিবরণ
নিহতের নামরিশমা খাতুন (৩০)
ঘটনার স্থানজয়দেবপুর, গাজীপুর
ঘটনার সময়বুধবার সকাল
হত্যাকারীমাসুদ রানা
আসামির জন্মস্থানকুড়িগ্রামের অনন্তপুর গ্রাম
গ্রেপ্তারের স্থানকুড়িগ্রাম, উলিপুর, জলংগারকুটি বুড়াবুড়ি এলাকা
গ্রেপ্তারের সময়বৃহস্পতিবার রাত
আইনগত ব্যবস্থাজয়দেবপুর থানায় হস্তান্তর

তদন্ত ও প্রতিক্রিয়া

র‍্যাবের কর্মকর্তা শাহ আলম জানিয়েছেন, প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা সংস্থার কার্যকারিতা ও দক্ষতার প্রতিফলন। বর্তমানে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলমান রয়েছে এবং মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য সকল প্রমাণ প্রক্রিয়াধীন।

স্থানীয় সমাজে এই হত্যাকাণ্ডে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা এই ঘটনার মাধ্যমে পুনর্ব্যক্ত হলো। স্থানীয় পুলিশ ও র‍্যাবের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং দ্রুত তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।