গাজার হাসপাতালে ইসরাইলি হামলায় হামাসের শীর্ষ নেতা নিহত

গাজার একটি হাসপাতালে রোববার ইসরাইলি বিমান হামলায় হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর একজন শীর্ষ সদস্য চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিহত হয়েছেন। হামাসের একটি সূত্র এই খবর নিশ্চিত করেছে। অপরদিকে, ইসরাইল দাবি করেছে যে, তারা একটি ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’কে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে।

এএফপি বার্তা সংস্থা গাজা থেকে এ তথ্য জানায়। হামাসের সূত্রটি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, ‘ইসরাইলি বাহিনী হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ইসমাইল বারহুমকে হত্যা করেছে।’

সূত্রটি আরো জানায়, ‘ইসরাইলি যুদ্ধবিমানগুলো খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালের অপারেটিং রুমে বোমা হামলা চালিয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে খান ইউনিসে বারহুমের বাড়ি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।’

যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপ শেষ হওয়ার পর ইসরাইল পুনরায় গাজায় বিমান হামলা চালানো শুরু করে, এবং এর পরই বারহুমসহ হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর চার সদস্য নিহত হন।

ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এই হামলা বারহুমকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।’

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ‘সুনির্দিষ্ট অস্ত্র’ দিয়ে এই হামলা করেছে। তাদের দাবি, তাদের লক্ষ্য ছিল নাসের হাসপাতালের কম্পাউন্ডের ভিতরে হামাসের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘ইসরাইলি বাহিনী নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সের সার্জারি ভবনে হামলা চালিয়েছে, যেখানে অনেক রোগী ও আহত ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন। ঘটনাস্থলে ভয়াবহ আগুন লেগে যায়।’

মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, হামলায় একজন নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেকেই আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে কিছু স্বাস্থ্যকর্মীও রয়েছে। পুরো হাসপাতাল বিভাগটি খালি করা হয়েছে।

গত রোববার হামাস জানায়, আগের দিন খান ইউনিসের কাছে ইসরাইলি বিমান হামলায় তাদের রাজনৈতিক ব্যুরোর আরেক শীর্ষ সদস্য সালাহ আল-বারদাউইল নিহত হয়েছেন। ৬৫ বছর বয়সী বারদাউইল তার স্ত্রীসহ আল-মাওয়াসির একটি তাঁবুতে নিহত হন।