সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত ইহুদি-বিরোধী মন্তব্যের জেরে ফ্রান্সে অধ্যয়নরত গাজা উপত্যকার এক ছাত্রীকে দেশটি ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ছাত্রী নুর আতালাহ রবিবার কাতারে চলে গেছেন এবং সেখানেই তিনি তার পড়াশোনা চালিয়ে যাবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বাহো এক বিবৃতিতে বলেন: “ফ্রান্সের ভূখণ্ডে প্রবেশের আগে মিজ নুর আতালাহ যে মন্তব্য করেছেন তা সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য।”
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়: “এই মন্তব্যের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে, মিজ আতালাহ ফ্রান্সে অবস্থান করতে পারবেন না। তিনি আজ কাতারে চলে গেছেন এবং সেখানে তার উচ্চশিক্ষা অব্যাহত রাখবেন।”
আইনজীবীর বক্তব্য
আতালাহর আইনজীবী ওসামা দাহমানে জানান: “আমার মক্কেল ইচ্ছাকৃতভাবে বা হিংসাত্মক মনোভাব পোষণ করেননি। তিনি শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষপাতী এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাতারে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, আতালাহ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন।
তদন্ত ও অভিযোগ
ফরাসি কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নুর আতালাহ গত ১১ জুলাই ফ্রান্সে এসেছিলেন। কিন্তু তার পূর্ববর্তী দুই বছরের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলো বিশ্লেষণ করে তাতে ইহুদি হত্যার উসকানি খুঁজে পাওয়া যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই বিষয়টি তদন্তের সময় সামনে আসে, যখন আতালাহ নিজেই পোস্টগুলো মুছে ফেলার চেষ্টা করেন। ফলে সন্ত্রাসবাদে সহায়তার অভিযোগে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, এই পোস্টগুলো আগে শনাক্ত না হওয়ার বিষয়েও আলাদা তদন্ত চালানো হচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য যাচাই
- এএফপি স্বাধীনভাবে তার নামে প্রচারিত স্ক্রিনশটের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
- তবে, ফরাসি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান সায়েন্সেস পো লিল জানিয়েছে, তারা আতালাহর সোশ্যাল মিডিয়ার মন্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
- প্রতিষ্ঠানটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিলেও, বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় এই মন্তব্যগুলোকে স্বীকারযোগ্য মনে করেছে।
