গাজায় হত্যাকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান : ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি প্রধান

ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক রবিবার মিশরে যাত্রা বিরতি কালে গাজায় নতুন করে যুদ্ধ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এরপর তিনি গাজায় যুদ্ধবিরতি পুনর্বহালের জন্য ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের উদ্দেশে রওয়ানা হন।

এএফপি জানায়, কায়রো থেকে, হামাসের সাথে যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপে আলোচনা স্থগিত হওয়ার পর মঙ্গলবার ইসরাইল গাজা উপত্যকায় তীব্র বিমান হামলা শুরু করে এবং পরে স্থল অভিযান চালায়।

কায়রোতে মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তির সাথে এক সংবাদ সম্মেলনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান জোসেপি কাজা কালাস বলেন, “আমরা ইসরাইলের শত্রুতা পুনরায় শুরুর তীব্র বিরোধিতা করি, যা গাজায় ভয়াবহ প্রাণহানি ঘটিয়েছে। এই হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা উচিত। নতুন যুদ্ধে উভয় পক্ষই হেরে গেছে।”

তিনি আরও বলেন, “ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে, এটা স্পষ্ট যে হামাসকে অবশ্যই সকল জিম্মিকে মুক্তি দিতে হবে এবং ইসরাইলকে অবশ্যই গাজায় মানবিক সহায়তা পূর্ণরূপে পুনঃস্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি, আলোচনা পুনরায় শুরু করতে হবে।”

কালাস তার সফরে মিশর ছেড়ে ইসরাইলে পৌঁছান। তার কার্যালয় জানিয়েছে, সোমবার তিনি ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি অঞ্চলগুলোয় আলোচনার সময় যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তির চুক্তির বাস্তবায়ন বিষয়ে অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাবেন।

তিনি গাজা এবং সমগ্র অঞ্চলে মানবিক সহায়তার নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশাধিকার এবং টেকসই বিতরণের গুরুত্বও তুলে ধরবেন।

জাতিসংঘ শুক্রবার জানিয়েছে, ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর ইসরাইল পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করার পর গাজা এক “দুঃস্বপ্নের” মুখোমুখি হয়েছে। সাহায্য কর্মীরা সতর্ক করেছেন, যুদ্ধবিরতির পরবর্তী পর্যায়ে আলোচনায় অচলাবস্থার কারণে গাজায় সাহায্য এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ইসরাইলের সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি আরো খারাপ করেছে।

কালাসের পরিকল্পনায় ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জোগ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার ও বিরোধী নেতা ইয়ার ল্যাপিডের সাথে বৈঠক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তবে তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সাথে সাক্ষাৎ করবেন না। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধের জন্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।

কালাস আরও পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মুস্তাফার সাথে আলোচনা করবেন।

ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তাবলী পরিবর্তন করার চেষ্টা করলে, গাজা নিয়ন্ত্রক হামাস একে সকল পক্ষের স্বাক্ষরিত চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায়ে গাজায় খাদ্য, আশ্রয় ও চিকিৎসা সহায়তা প্রবেশ এবং ইসরাইলি কারাগারে বন্দী ফিলিস্তিনিদের জন্য ইসরাইলি জিম্মিদের বিনিময় সম্ভব হয়েছিল।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের যোদ্ধারা ইসরাইলি সীমান্তে হামলা চালায়। ইসরাইলি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই হামলায় ১,২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক।

রোববার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজায় ইসরাইলের পরবর্তী বোমাবর্ষণ ও স্থল আক্রমণে কমপক্ষে ৫০,০২১ জন নিহত হয়েছে।