ঢাকা, ৩ মার্চ ২০২৫ – ইসরাইল রোববার গাজায় মানবিক সহায়তা সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে, যা ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ফলে চালু হয়েছিল। এই যুদ্ধবিরতির কারণে খাদ্য, আশ্রয় ও চিকিৎসা সহায়তা প্রবেশ করছিল। জাতিসংঘ দ্রুত মানবিক সহায়তা পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়েছে। জেরুজালেম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
Table of Contents
গাজায় সহায়তা সরবরাহ বন্ধ করল ইসরাইল, জাতিসংঘের উদ্বেগ
যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তা ও সাহায্য বন্ধ
৪২ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ শেষ হওয়ার পর এর মেয়াদ বাড়ানোর আলোচনা অচলাবস্থার মুখে পড়লে ইসরাইল সহায়তা সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।
যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতাকারী মিশর ও কাতার ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। এএফপির ছবিতে দেখা গেছে, রাফাহ ক্রসিংয়ের মিশরীয় পাশে পণ্য বোঝাই ট্রাক সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে।
মার্কিন মধ্যপ্রাচ্য দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, ইসরাইল এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিল। তবে হামাস যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের শর্তে চুক্তির দ্বিতীয় ধাপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
ইসরাইলি হামলা ও হতাহতের ঘটনা
যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তার মধ্যে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি উভয় সূত্র গাজায় সামরিক হামলার খবর জানিয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে,
“হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছে।”
হামাস অভিযোগ করে,
“মানবিক সহায়তা স্থগিতের সিদ্ধান্ত একটি সস্তা ব্ল্যাকমেইল, যুদ্ধাপরাধ এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন।”
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও নিন্দা
মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরাইলকে ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ‘অনাহারকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের’ অভিযোগ এনেছে। কাতারও একই মন্তব্য করেছে।
ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ছাড়া ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে অস্বীকৃতি জানানো সৌদি আরব এই ঘটনাকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে।
জর্ডান সতর্ক করেছে,
“ইসরাইলের এই পদক্ষেপ গাজায় পুনরায় যুদ্ধ শুরুর হুমকি সৃষ্টি করছে।”
জাতিসংঘের আহ্বান
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন,
“গাজায় মানবিক সহায়তা দ্রুত পুনরায় চালু করতে হবে।”
