গাজায় শান্তি ঘোষণার পর থেকে শতাধিক শিশু নিহত হয়েছে: ইউনিসেফ

জাতিসংঘের শিশু অধিকার সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, গত অক্টোবর মাসে গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরায়েলি হামলায় একশ’র বেশি শিশু নিহত হয়েছেন। নিহত শিশুদের মধ্যে অনেকেই ড্রোন ও কোয়াডকপ্টার হামলার শিকার হয়েছে।

ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এল্ডার মঙ্গলবার জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, “যুদ্ধবিরতির সময় বোমা হামলা এবং গুলিবর্ষণ কিছুটা কমেছে, তবে থেমে যায়নি। বেঁচে থাকা শিশুদের জীবন এখনও ঝুঁকিপূর্ণ। নিহত শিশুদের মধ্যে ৬০ জন ছেলে ও ৪০ জন মেয়ে।”

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শান্তি চুক্তির সময়কালেও অন্তত ১৬৫ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া, বছরের শুরু থেকে শীতজনিত কারণে ৭ শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। এল্ডার আরও বলেন, “শান্তি চুক্তি বোমা হামলার মাত্রা কিছুটা কমালেও শিশুদের মৃত্যু রোধ করতে পারছে না। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।”

তাদের মৃত্যু মূলত বিমান ও ড্রোন হামলা, আত্মঘাতী ড্রোন হামলার মাধ্যমে ঘটেছে। দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের ফলে গাজার শিশুদের জীবন চরমভাবে বিপন্ন হয়েছে। শিশুদের মানসিক আঘাতের চিকিৎসা হয়নি, এবং যুদ্ধ দীর্ঘ হওয়ায় ক্ষত সারানো ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

নিচের টেবিলে কিছু প্রাথমিক তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:

তথ্যসংক্রান্ত বিষয়সংখ্যা/বিবরণ
নিহত শিশু (মোট)১০০+
ছেলে শিশু৬০
মেয়ে শিশু৪০
শান্তি চুক্তি সময় নিহত শিশু১৬৫
শীতজনিত মৃত্যু শিশু
মৃত্যু কারণবিমান হামলা, ড্রোন, আত্মঘাতী ড্রোন হামলা

এল্ডার সতর্ক করেছেন যে, শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য এখনও গভীর ঝুঁকিতে রয়েছে। “শিশুরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে, তারা নিরাপদে বড় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। দীর্ঘ সংঘাতের কারণে এই ক্ষত আরও গভীর হয়ে যাচ্ছে এবং সারানো কঠিন হয়ে উঠছে,” তিনি উল্লেখ করেন।

বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি ইউনিসেফ আহ্বান জানিয়েছে, শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। নিরাপদ আশ্রয়, মানসিক চিকিৎসা এবং শিক্ষা ব্যবস্থা পুনরায় চালু করার মাধ্যমে গাজার শিশুদের জীবন নিরাপদ ও সুস্থ রাখা সম্ভব।