গাজার দক্ষিণাঞ্চলের রাফাহ শহরে একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের কাছে গুলিবর্ষণের ঘটনায় দায় অস্বীকার করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এই ঘটনায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
জেরুজালেম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র কর্নেল অলিভিয়ে রাফোভিচ বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করছি। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে এমন কোনো তথ্য নেই, যা থেকে বলা যায় যে আমাদের সেনারা গুলি চালিয়েছে।’
তিনি দাবি করেন, ঘটনাস্থলে সেনারা শুধু সতর্কতামূলক গুলি ছুঁড়েছে এবং তা বিতরণ কেন্দ্রের বাইরের এলাকায়। জনতার উদ্দেশ্যে কোনো গুলি চালানো হয়নি বলেও জানান তিনি।
এ সময় তিনি হামাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেন, ‘হামাস মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।’
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তরের ফিলিস্তিনি অঞ্চলের প্রধান অজিত সাংঘাই জানান, মঙ্গলবার রাফাহ শহরে নতুন একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের দিকে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। এতে অন্তত ৪৭ জন আহত হন।
তিনি বলেন, ‘আহতদের বেশিরভাগ গুলিবিদ্ধ এবং সেগুলো এসেছে ইসরায়েলি বাহিনীর দিক থেকেই।’
ঘটনাস্থলে থাকা এএফপির সাংবাদিকরা জানান, বিতরণ কেন্দ্রটি পরিচালনা করছিল ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)’। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সহায়তায় গঠিত এবং জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে গাজায় সরাসরি ত্রাণ সরবরাহ করে।
তবে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবিক সংস্থা আগেই জানিয়েছে, তারা এই ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কোনো ধরনের সহযোগিতা করবে না।
অজিত সাংঘাই বলেন, ‘আমরা বহুবার এই ব্যবস্থার ঝুঁকি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছি। আর গতকালের ঘটনাই সেই শঙ্কার বাস্তব প্রমাণ।’
