গাইবান্ধায় ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও স্থানীয় বিরোধের জেরে ফরিদপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি উজ্জ্বল আকন্দের বাড়িতে বর্বরোচিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের নয়নপুর গ্রামে এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে। হামলায় নারীসহ অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও বিবরণ

প্রাপ্ত তথ্য ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেল ৪টার দিকে উজ্জ্বল আকন্দের চাচাতো ভাই শাহিন মিয়া পার্শ্ববর্তী পীরগঞ্জ উপজেলার মাদারগঞ্জ হাট থেকে নিজের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। নয়নপুর জামে মসজিদের সামনে পৌঁছালে ১৩-১৪ জন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার গতিরোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা রিকশাটি ভাঙচুর শুরু করে এবং শাহিনকে বেধড়ক মারধর করে।

শাহিনের চিৎকার শুনে তার স্বজনরা ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। জীবন বাঁচাতে তারা দৌড়ে ছাত্রদল নেতা উজ্জ্বল আকন্দের বাড়িতে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা সেখানেও চড়াও হয়। তারা উজ্জ্বল আকন্দের বাড়িসহ তার চাচা ছকু আকন্দ ও চাচাতো ভাই ইউনুস আকন্দের বসতবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।

হতাহতের তালিকা ও চিকিৎসা

হামলায় আহতদের মধ্যে ৩ জনকে গুরুত্বর অবস্থায় সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। নিচে আহতদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হলো:

নামবয়সবর্তমান অবস্থা
ছকু আকন্দ৫৫ বছরহাসপাতালে চিকিৎসাধীন
মোর্শেদা বেগম৪০ বছরহাসপাতালে চিকিৎসাধীন
মনজুরুল ইসলাম৪২ বছরহাসপাতালে চিকিৎসাধীন
শাহিন মিয়া৩০ বছরপ্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ
অন্যান্য (৫ জন)প্রাথমিক চিকিৎসা ও বাড়িতে অবস্থান

পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ও রাজনৈতিক উত্তাপ

ঘটনার পর সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) উজ্জ্বল আকন্দ বাদী হয়ে স্থানীয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। উজ্জ্বল আকন্দের দাবি, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার পরিবার ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করায় স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ ছিল। সেই প্রতিহিংসা থেকেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব পারভেজ সরকারও এই ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে দাবি করেছেন।

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, এটি কোনো রাজনৈতিক ঘটনা নয়। স্থানীয় বাজারের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল, যার ফলশ্রুতিতে এই সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশের পদক্ষেপ

সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি নিছক রাজনৈতিক কি না, নাকি এর পেছনে ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত কোনো দ্বন্দ্ব রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে গভীর তদন্ত শুরু হয়েছে। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।