মানবাধিকার ও সংস্কৃতিকে সমর্থনকারী প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ), সম্প্রতি দেশজুড়ে গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এমএসএফ মনে করে, সরকারের নীরবতা ও উদাসীনতা বিশেষ কিছু গোষ্ঠীকে (‘মব’) স্বাধীনভাবে সন্ত্রাস চালিয়ে দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করার সুযোগ করে দিচ্ছে।
সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি সুলতানা কামাল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রত্যেক সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রথম আলোর কার্যালয় এবং ডেইলি স্টার অফিসে হামলার ঘটনায় সাংবাদিকদের মধ্যে আতঙ্ক ও ভয় সৃষ্টি হয়। অনেক সাংবাদিক জীবন রক্ষার্থে চিৎকার করতে বাধ্য হন। একই সময়ে নিউ এজের সম্পাদক নূরুল কবীরকেও হেনস্তার শিকার হতে হয়। দেশের বিভিন্ন জেলার প্রথম আলো কার্যালয়েও হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এমএসএফ আরও জানিয়েছে, একই দিনে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানটে হামলা ও ভাঙচুর এবং শুক্রবার রাতে উদীচী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সরকারের নীরবতা ও দায়িত্বহীনতা বিশেষ গোষ্ঠীকে স্বাধীনভাবে ‘মব’ হিসেবে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে, যা শুধুমাত্র সমাজকে অস্থিতিশীল করছে না, বরং আসন্ন নির্বাচনী প্রক্রিয়াকেও বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্য বহন করছে। এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে সামাজিক নিরাপত্তা ও নাগরিক আস্থার ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতি ঘটবে।
বিজ্ঞপ্তিতে এমএসএফ আরও উল্লেখ করেছে, ব্যক্তিগত মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু তার আড়ালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশ ও মুক্তচিন্তার ওপর সরাসরি আক্রমণ। এটি দেশের গণতন্ত্র ও সুশাসনের জন্য এক ভয়াবহ সংকেত। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্মকর্তারা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম স্বাধীনতার প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বললেও, বাস্তবে সাংবাদিক ও সংস্কৃতিমনা মানুষদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় জনমনে সরকারের কার্যকারিতা ও ন্যায্যতার বিষয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।