“আর্জেন্টিনা ছাড়াই শুরু হবে কাবাডি বিশ্বকাপ, অংশ নিচ্ছে ১২ দেশ”

বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো দেশের মাটিতে আয়োজিত হতে যাচ্ছে ‘নারী কাবাডি বিশ্বকাপ’। জাতীয় খেলা কাবাডিকে বিশ্বমঞ্চে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এই টুর্নামেন্টটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তবে এই ঐতিহাসিক আসরের ঠিক আগমুহূর্তে একটি নেতিবাচক সংবাদে কিছুটা হলেও হতাশ হয়েছেন ভক্তরা। লাতিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনার নারী দল এই টুর্নামেন্ট থেকে তাদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে। শেষ মুহূর্তের এই পরিবর্তনে টুর্নামেন্টের সূচি ও অংশগ্রহণকারী দলের তালিকায় কিছুটা পরিমার্জন আনা হয়েছে।

আর্জেন্টিনার নাম প্রত্যাহার ও ফেডারেশনের বক্তব্য

আর্জেন্টিনা ফুটবল বিশ্বে এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হলেও গত কয়েক বছর ধরে তারা কাবাডি খেলাতেও নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছিল। বাংলাদেশের এই বিশ্বকাপে তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। তবে অনিবার্য কারণে তারা সফর বাতিল করেছে। বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক কাবাডি ফেডারেশনের মাধ্যমে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, আর্জেন্টিনা দল এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে না। যদিও তাদের প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কারণ বিস্তারিতভাবে জানানো হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে লজিস্টিক বা অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যার কারণে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অংশগ্রহণকারী দেশসমূহ ও বর্তমান পরিস্থিতি

আর্জেন্টিনা বিদায় নেওয়ায় এখন অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২টিতে। দলগুলো এশিয়া, ইউরোপ এবং আফ্রিকা মহাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক এই আসরে অংশ নিতে বাংলাদেশে আসতে শুরু করেছে বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়রা। আফ্রিকান দেশ জাঞ্জিবার ইতোমধ্যেই ঢাকায় পৌঁছে তাদের অনুশীলন শুরু করেছে। ফেডারেশন সূত্র জানিয়েছে, টুর্নামেন্টের অন্যান্য শক্তিশালী দলগুলোও আজ রাতের মধ্যে ঢাকায় এসে পৌঁছাবে। স্বাগতিক বাংলাদেশসহ ভারত, ইরান এবং জাপানের মতো শক্তিশালী দলগুলোর উপস্থিতি টুর্নামেন্টের উত্তেজনা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

নিচে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর একটি তালিকা প্রদান করা হলো:

ক্রমিকঅংশগ্রহণকারী দেশের নামমহাদেশ/অঞ্চল
বাংলাদেশ (স্বাগতিক)এশিয়া
ভারতএশিয়া
ইরানএশিয়া
জাপানএশিয়া
দক্ষিণ কোরিয়াএশিয়া
নেপালএশিয়া
থাইল্যান্ডএশিয়া
চাইনিজ তাইপেএশিয়া
জার্মানিইউরোপ
১০হল্যান্ড (নেদারল্যান্ডস)ইউরোপ
১১কেনিয়া, উগান্ডা ও জাঞ্জিবারআফ্রিকা

(দ্রষ্টব্য: আর্জেন্টিনা নাম প্রত্যাহার করায় মোট দলের সংখ্যা এবং বিন্যাসে পরিবর্তন আনা হয়েছে।)

সময়সূচি ও ভেন্যু পরিচিতি

বিশ্বকাপের দামামা আগে থেকেই বাজতে শুরু করলেও উদ্বোধনী তারিখে সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী টুর্নামেন্টটি ১৫ নভেম্বর শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে আয়োজক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয় যে, বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে আগামী ১৭ নভেম্বর। টুর্নামেন্টের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে থাকবে পল্টনের ঐতিহ্যবাহী কাবাডি স্টেডিয়াম। তবে দর্শক সমাগম এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধার কথা মাথায় রেখে মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামকেও ভেন্যু হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে ভেন্যুগুলোকে সাজিয়ে তোলা হয়েছে।

নারী কাবাডির গুরুত্ব ও স্বাগতিকদের সম্ভাবনা

বাংলাদেশে নারীদের জন্য এ ধরনের বিশ্বমানের আসর আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো তৃণমূল পর্যায়ে নারী খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করা। কাবাডি বাংলাদেশের জাতীয় খেলা হওয়া সত্ত্বেও নারীদের ক্ষেত্রে এই খেলাটি দীর্ঘকাল কিছুটা অবহেলিত ছিল। এই বিশ্বকাপের মাধ্যমে বাংলার বাঘিনীরা নিজেদের সামর্থ্য বিশ্বকে দেখানোর সুযোগ পাবে। ভারত এবং ইরানের মতো কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়তে বাংলাদেশ দল গত কয়েক মাস ধরে নিবিড় অনুশীলনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

ফেডারেশনের কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই টুর্নামেন্ট কেবল খেলার মাঠেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি বাংলাদেশে ক্রীড়া পর্যটন ও কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা রাখবে। জার্মানি এবং হল্যান্ডের মতো ইউরোপীয় দেশের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, কাবাডি এখন আর কেবল দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক খেলা নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক রূপ ধারণ করছে।

পরিশেষে, আর্জেন্টিনার অনুপস্থিতি কিছুটা অনুভূত হলেও টুর্নামেন্টের জৌলুসে কোনো ভাটা পড়বে না বলে বিশ্বাস করেন আয়োজকরা। ১৭ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া এই লড়াইয়ে কার মাথায় উঠবে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো ক্রীড়াবিশ্ব। সুষ্ঠু ও সফলভাবে এই বিশ্বকাপ সম্পন্ন করা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং সফল হলে এটি ভবিষ্যতে বড় বড় আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজনের পথ প্রশস্ত করবে।