গণভোটে ‘না’ ভোট দিলে ১৯৭২ সালের সংবিধান অপরিবর্তিত থাকবে

আগামী জাতীয় গণভোটকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মহলে এবং নাগরিক সমাজে সংবিধান সংশোধন নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে। সরকারি সূত্রের খবর, যদি ভোটাররা গণভোটে ‘না’ ভোট দেন, তবে ১৯৭২ সালের সংবিধান বহাল থাকবে। এটি স্বাধীনতার পর প্রণীত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন, যা রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা, মৌলিক অধিকার এবং বিচার ও প্রশাসনের কাঠামো নির্ধারণ করে।

সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব অনুযায়ী ভোটারদের সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক কাঠামো এবং নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত মৌলিক নীতি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। বিশেষভাবে,

  • ‘না’ ভোট: বর্তমান সংবিধানের অধীনে রাষ্ট্রের শাসন, মৌলিক অধিকার, নির্বাচন ও বিচার ব্যবস্থা অপরিবর্তিত থাকবে।

  • ‘হ্যাঁ’ ভোট: প্রস্তাবিত সংশোধনী কার্যকর হবে, যা সংবিধানের মৌলিক নীতিতে পরিবর্তনের পথ খুলবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভোটারদের সচেতন অংশগ্রহণ দেশের সংবিধান এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে আরও দৃঢ় করতে পারে। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো সংরক্ষণ এবং নাগরিক অধিকার রক্ষায় এই গণভোটকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা উল্লেখ করেছেন।

১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়নের সময় দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রজাতন্ত্র হিসেবে রাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্য ছিল। সংবিধানটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শাসন, প্রশাসনিক ও বিচারিক স্বাধীনতা সংরক্ষণের প্রাথমিক নথি হিসেবে বিবেচিত।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে ভোটারদের সচেতন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিস্তারিত প্রচার চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম, ওয়েবসাইট এবং সরাসরি ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের প্রভাব ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক ও নাগরিক মহলে বিভিন্ন মতামত শোনা যাচ্ছে। কেউ মনে করছেন, ‘না’ ভোটের মাধ্যমে সংবিধান বহাল রাখা বর্তমান কাঠামোকে শক্তিশালী করবে। অন্যরা বলছেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে শাসন ও প্রশাসনে নতুন সমন্বয় এবং আধুনিকতা আনা সম্ভব।

নিচের টেবিলে গণভোটের সম্ভাব্য প্রভাব সংক্ষেপে দেওয়া হলো:

ভোটের ধরণপ্রভাবরাষ্ট্রের কাঠামোনাগরিক অধিকার
না ভোটবর্তমান সংবিধান বহালঅপরিবর্তিতসংরক্ষিত
হ্যাঁ ভোটপ্রস্তাবিত সংশোধনী কার্যকরনতুন কাঠামোসম্প্রসারিত/পরিবর্তিত

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণভোটে প্রতিটি ভোট দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই সচেতন ও তথ্যভিত্তিক ভোট প্রদানের মাধ্যমে নাগরিকরা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন।

সর্বোপরি,বিতর্কিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে ।

SB