২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখের মধ্যে সাত কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ভোটার অংশ নেন। এর মধ্যে ৬২ শতাংশের বেশি ভোটার ‘হ্য্যা’ ভোট দেওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়নের পথ খুলেছে। তবে রাজনৈতিক দলের ভিন্নমতের কারণে সব সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়িত হবে না বলে সংবিধান বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন।
জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই পরিষদ ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জাতীয় সনদ ও গণভোটে অন্তর্ভুক্ত ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করবে। এর মধ্যে ৪৭টি প্রস্তাব সাংবিধানিক, এবং বেশ কিছুতে বিএনপি ও অন্যান্য দলের নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তি রয়েছে।
গণভোটের ফলাফলের সারসংক্ষেপ
| ভোটের ধরন | ভোটার সংখ্যা | শতকরা (%) |
|---|---|---|
| মোট ভোটার | ৭,৭৬,৯৫,০০০ | ৬০.৮% |
| হ্য্যা ভোট | ৪,৮০,৭৪,৪২৯ | ৬১.৮% |
| না ভোট | ২,২৫,৬৫,৬২৭ | ২৯.০% |
ফলে প্রধান সংবিধান বিশ্লেষকরা বলছেন, যেসব প্রস্তাবে রাজনৈতিক দলের নোট অব ডিসেন্ট নেই, সেগুলো সহজেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব। তবে দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। বিএনপি তাদের ইশতেহারে সংসদের আসন সংখ্যার ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠন করার ঘোষণা দিয়েছে, যা গণভোটের আনুপাতিক ভোটের নিয়মের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার জানান, “গণভোটের ব্যালেটে উচ্চকক্ষের গঠন সরাসরি মানুষ অনুমোদন করেছে, অন্যদিকে বিএনপির ইশতেহার ভোটের মাধ্যমে সরাসরি যাচাই হয়নি।”
সংবিধানিক সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ
প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য বৃদ্ধি।
নিয়োগ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে কমিটি মাধ্যমে সমন্বয়, যা ক্ষমতাসীন দল, বিরোধী দল ও বিচার বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত হবে।
সংসদে ভোট প্রক্রিয়ায় সদস্যদের স্বাধীনতা বৃদ্ধি।
প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত পদে থাকতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে দলীয় প্রধান হবেন না।
তবে শেষ দুটি প্রস্তাবে বিএনপির ভিন্নমতের কারণে তা কার্যকর হবে না। আইনজীবী জাহেদ ইকবাল উল্লেখ করেন, “সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশেই বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দল বিজয় লাভের পর ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।”
উচ্চকক্ষের গঠন ও ভোটের আনুপাতিক হিসাব
| গঠন পদ্ধতি | বিএনপি জোট | জামায়াত জোট | এনসিপি | মোট আসন |
|---|---|---|---|---|
| আসন সংখ্যার ভিত্তিতে | ৭০ | ২৬ | ২ | ১০০ |
| ভোটের আনুপাতিক হারে | ৫২–৫৩ | ৩৮ | – | ১০০ |
উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন ও গঠনের বিষয়টি গণভোটে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত থাকায় এটি রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে প্রাধান্য পাবে। তবে দলগুলোর ইশতেহার বা নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী কিছু সংস্কার কার্যকর হবে না।
নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি এককভাবে ২৯০টি আসনে ৪৯.৯৭% ভোট পেয়েছে, জামায়াত ২২৭ আসনে ৩১.৭৬% ভোট পেয়ে জোটে ৩৮.৫১% ভোট পায়। এই প্রেক্ষাপটে, আসন সংখ্যার ভিত্তিতে বা ভোটের আনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষের গঠন বিষয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত থাকবে।
