গণভোটের অবস্থান রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে স্পষ্ট চাই

নির্বাচনী ইশতেহারকে কেবল রাজনৈতিক প্রচারপত্র নয়, বরং জনগণের সঙ্গে দলগুলোর একটি ‘পবিত্র চুক্তি’ হিসেবে গণ্য করার দাবি জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। রবিবার (৪ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো গণভোটের ক্ষেত্রে ‘হ্যাঁ’ নাকি ‘না’ ভোটের পক্ষে থাকবে, তা তাদের ইশতেহারে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর যে রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে দলগুলোর লিখিত অঙ্গীকার থাকা এখন সময়ের দাবি।

ড. মজুমদার তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, কেবল একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই গণতন্ত্রের জন্য যথেষ্ট নয়। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে দলগুলোকে আগে নিজেরা গণতান্ত্রিক হতে হবে। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, অতীতে অনেক দল ‘দিন বদলের সনদ’-এর মতো চমৎকার সব ইশতেহার দিলেও ক্ষমতায় গিয়ে তা ভুলে যায়। তাই এবার এমন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে যাতে ইশতেহারের অঙ্গীকার ভঙ্গ করলে নাগরিকদের আদালতে যাওয়ার বা জবাবদিহি চাওয়ার আইনি সুযোগ থাকে। বিশেষ করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজনীতিবিদদের সম্পদ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির যে ‘জাদুর কাঠি’ রয়েছে, তার অবসান কীভাবে ঘটবে, তা দলগুলোকে পরিষ্কার করতে হবে।

সুজন প্রস্তাবিত নির্বাচনী ইশতেহারের প্রধান ১৫টি দফা

ক্রমপ্রস্তাবিত বিষয়উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য
জুলাই সনদ বাস্তবায়নসংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো কার্যকর করার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার।
আইনশৃঙ্খলার জবাবদিহিবাহিনীগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করে জনগণের সেবক হিসেবে গড়ে তোলা।
দুর্নীতি নির্মূলদুর্নীতির বিরুদ্ধে কেবল স্লোগান নয়, প্রাতিষ্ঠানিক লড়াই শুরু করা।
সাংবিধানিক ভারসাম্যপ্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা কমিয়ে আইন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা।
মেধাভিত্তিক সমাজকোটা বা স্বজনপ্রীতি নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।
স্থানীয় সরকারকেন্দ্রমুখী ক্ষমতা কমিয়ে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী ও স্বাধীন করা।

সংবাদ সম্মেলনে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অধ্যাপক এ কে এম ওয়ারেসুল করিম এই ১৫টি প্রস্তাবনা পাঠ করেন। প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে নারী ক্ষমতায়ন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং প্রান্তিক মানুষের জন্য সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সুজন মনে করে, রাজনীতির ব্যবসায়ীকরণ বন্ধ না হলে সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব নয়। ব্যবসায়ীরা যখন রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেন, তখন জনস্বার্থের চেয়ে গোষ্ঠীস্বার্থ বড় হয়ে দাঁড়ায়।

সভাপতির বক্তব্যে সুজনের কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের পুরোনো সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ইশতেহার হওয়া উচিত দলগুলোর স্বচ্ছতার আয়না। উপস্থিত বক্তারা মনে করেন, দলগুলো যদি সংস্কারের সুপারিশগুলো তাদের ইশতেহারে সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ না করে, তবে আগামী দিনে তারা আবারও স্বৈরতান্ত্রিক পথে হাঁটার সুযোগ পাবে। তাই ভোটারদের সচেতন হওয়ার এবং ইশতেহার দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় এই সংবাদ সম্মেলন থেকে।