খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় ভোররাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও ককটেলসহ কুখ্যাত খবির মোল্লা গ্রুপের সাত সদস্যকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। রবিবার দুপুরে কোস্ট গার্ডের গণমাধ্যম শাখার কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার ভোর প্রায় পাঁচটার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন রূপসার একটি বিশেষ দল খুলনা জেলার দিঘলিয়া থানার গাজীরহাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। দীর্ঘ সময় ধরে নজরদারি চালানোর পর অভিযানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান পরিচালনা করে ঘটনাস্থল থেকে একটি একনলা বন্দুক, একটি দেশীয় তৈরি একবার ব্যবহারযোগ্য আগ্নেয়াস্ত্র, তিন রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং একটি ককটেল উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের সময় সন্দেহভাজন সাতজনকে আটক করা হয়। কোস্ট গার্ডের সদস্যরা ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও বিস্ফোরক সামগ্রী জব্দ করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আটক ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং স্থানীয় এলাকায় নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
আটক ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করে জানা গেছে, তারা সবাই নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার বাসিন্দা। অভিযানে আটক হওয়া ব্যক্তিদের নাম, বয়স ও ঠিকানা নিচের ছকে উপস্থাপন করা হলো—
| ক্রম | নাম | বয়স | স্থায়ী ঠিকানা |
|---|---|---|---|
| ১ | মো. সিরাজ মোল্লা | ৫৫ বছর | কালিয়া উপজেলা, নড়াইল |
| ২ | মো. মিজানুর ফকির | ৫৫ বছর | কালিয়া উপজেলা, নড়াইল |
| ৩ | তুহিন মোল্লা | ২৪ বছর | কালিয়া উপজেলা, নড়াইল |
| ৪ | ইমরান মোল্লা | ২৩ বছর | কালিয়া উপজেলা, নড়াইল |
| ৫ | আশিক মোল্লা | ২০ বছর | কালিয়া উপজেলা, নড়াইল |
| ৬ | নাছিম শেখ | ২১ বছর | কালিয়া উপজেলা, নড়াইল |
| ৭ | জনি মোল্লা | ৩৭ বছর | কালিয়া উপজেলা, নড়াইল |
কোস্ট গার্ড সূত্রে আরও জানা যায়, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও বিস্ফোরক সামগ্রী প্রাথমিকভাবে জব্দ করা হয়েছে এবং এগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিঘলিয়া ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কিছু অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব চক্র অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান চালানো হচ্ছে।
কোস্ট গার্ডের গণমাধ্যম শাখার কর্মকর্তা জানান, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড নিয়মিতভাবে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চল, নদীপথ ও আশপাশের এলাকায় অপরাধ দমনে কোস্ট গার্ডের টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অবৈধ অস্ত্র, মাদক, চোরাচালান ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধে কোস্ট গার্ডের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
