খালেদা জিয়ার শারীরিক উন্নতি, রাজনৈতিক কর্মসূচি স্থগিত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থায় সামান্য উন্নতি দেখা দিয়েছে। রোববার তিনি হাসপাতালে অল্প নড়াচড়া করতে সক্ষম হন এবং সংক্ষিপ্তভাবে কথাবার্তায় সাড়া দেন। তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এখনো তিনি ঝুঁকিমুক্ত নন।

গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। লিভার ও কিডনির সমস্যা, শ্বাসকষ্ট এবং শরীরে পানি জমা—একাধিক জটিলতার কারণে চিকিৎসা জটিল হয়ে উঠেছে। অবনতির পর তাকে হাইডিপেনডেন্সি ইউনিটে রাখা হয়েছে, যা আইসিইউ সমমানের। চিকিৎসকেরা দেশি-বিদেশি সমন্বয়ে তার চিকিৎসা করছেন।

পরিবারের দিক থেকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার চেষ্টা চলছে, তবে দীর্ঘ ফ্লাইট ও পরিবেশগত পরিবর্তন বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। চিকিৎসকেরা এখন দেশে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। কিডনির ডায়ালাইসিস হয়েছে, কিন্তু স্বাভাবিক খাবার এখনও নেওয়া সম্ভব হয়নি।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও খালেদা জিয়ার অসুস্থতা প্রভাব ফেলেছে। বিজয় মাস উপলক্ষে ১ ডিসেম্বর থেকে ‘বিজয় মশাল রোড শো’ ঘোষণা করেছিল বিএনপি। খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতার কারণে দলের এই কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলের চেয়ারপারসন জীবনের জন্য সংগ্রাম করছেন, তাই কর্মসূচি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও পরিবারের সদস্যরা খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি যুক্ত আছেন। দলের নেতারা প্রতিদিনই তার খোঁজ নিচ্ছেন, তবে হাসপাতালের সামনে ভিড় না করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

চিকিৎসকরা বলেছেন, তার কিডনির জটিলতা, শরীরে পানি জমা এবং শ্বাসকষ্ট মিলিয়ে সতর্কতার সঙ্গে চিকিৎসা চলছে। বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিমানযাত্রার জন্য তাকে কত দ্রুত প্রস্তুত করা যায়, তা এখন চিকিৎসকদের নজরদারিতে। তবে বর্তমানে তার অবস্থার উন্নতি হওয়া সত্ত্বেও বিদেশে নেওয়ার মতো পর্যায়ে পৌঁছায়নি।