ক্রাইস্টচার্চে চলমান টেস্ট ম্যাচের তৃতীয় দিনের শেষে নিউজিল্যান্ড যখন বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিল, তখন অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন ম্যাচটি হয়তো পঞ্চম দিন পর্যন্ত গড়াবে না। চতুর্থ দিনের শুরুতেও স্বাগতিকরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে ৫৩১ রানের বিশাল লক্ষ্য ছুড়ে দেয় তারা, যা টেস্ট ইতিহাসে আগে কখনো সফলভাবে তাড়া করা হয়নি।
এই কঠিন রান–তাড়ায় নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যখন মাত্র ৭২ রানে চার উইকেট হারাল, তখন মনে হচ্ছিল ম্যাচ আর খুব বেশি দূর এগোবে না। ওপেনার জন ক্যাম্পবেল ফেরেন ২৪ রানে দলের ইনিংসে ১৩তম ওভারে। পরের ওভারেই তেজনারায়ণ চন্দরপলকে আউট করেন জ্যাকব ডাফি। মধ্যক্রমে আলিক অ্যাথানাজ এবং রোস্টন চেজও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি; ম্যাট হেনরি ও মাইকেল ব্রেসওয়েলের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে তারা দ্রুত বিদায় নেন। স্কোরবোর্ড তখন ২৮.৩ ওভারে ৭২/৪।
এমন পরিস্থিতিতে শুরু হয় শাই হোপ ও জাস্টিন গ্রিভসের লড়াই। তারা পঞ্চম উইকেটে দাঁড়িয়ে যান এক তুলনাহীন প্রতিরোধ গড়ে। দুজন মিলে ২৭৫ বল মোকাবিলা করে ১৪০ রানের অপরাজিত জুটি গড়ে দলের ইনিংস স্থিতিশীল করেন। হোপ ১৩২ বল মোকাবিলা করে ১১৬ রান ও গ্রিভস ১৪৩ বল খেলে ৫৫ রানে অপরাজিত ছিলেন।
তৃতীয় দিনের খেলা ৪১৭ রানে শেষ করা নিউজিল্যান্ড পরদিন সকালে আরও ৪৯ রান যোগ করে চার উইকেট হারায়। এরপর দলীয় ৪৬৬ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে। এর ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই শুরুতে বিপদে পড়তে হয়।
পঞ্চম দিনে হোপ–গ্রিভস জুটি কতক্ষণ টিকে থাকতে পারে, তা নির্ধারণ করবে ম্যাচের ভাগ্য। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে এখনও বাকি ৩১৯ রান। হাতে ছয় উইকেট রেখে তারা কি অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারবে, তা নিয়েই আগ্রহ ক্রিকেটপ্রেমীদের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
| দল | ইনিংস | রান | উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স |
|---|---|---|---|
| নিউজিল্যান্ড | ১ম | ২৩১ | ল্যাথাম ১৪৫, রবীন্দ্র ১৭৬ |
| নিউজিল্যান্ড | ২য় | ৪৬৬/৮ ডিক্লেয়ার | রোচ ৫/৭৮ |
| ওয়েস্ট ইন্ডিজ | ১ম | ১৬৭ | – |
| ওয়েস্ট ইন্ডিজ | ২য় | ২১২/৪ | হোপ ১১৬*, গ্রিভস ৫৫* |
—চতুর্থ দিন শেষে
এজে
