ক্যারিবীয় সাগরে একটি মাদকবাহী সাবমেরিন ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা দেশটির উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
অভিযানে দুজন নিহত এবং দুজন জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছেন। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। রবিবার (১৯ অক্টোবর) এই তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
শনিবার রাতে নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প লিখেছেন, “আমার জন্য এটি এক বিশাল সম্মানের বিষয়—আমরা একটি বৃহৎ মাদকবাহী সাবমেরিন ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছি, যা মাদক চোরাচালান পথ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।”
তিনি আরও জানান, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে সাবমেরিনটিতে ফেন্টানিলসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদক বহন করা হচ্ছিল।
“নৌযানটিতে চারজন ‘নার্কো-টেররিস্ট’ ছিল, যাদের মধ্যে দুইজন নিহত হয়েছে,” যোগ করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের মতে, এই অভিযানে অংশ নেওয়া মার্কিন বাহিনীর কোনও ক্ষতি হয়নি এবং কোনও সেনা আহত হয়নি।
তিনি দাবি করেন, “যদি এই সাবমেরিন উপকূলে পৌঁছাতে পারত, তাহলে অন্তত ২৫ হাজার আমেরিকান প্রাণ হারাতেন।”
বেঁচে থাকা দুই মাদক পাচারকারীকে তাদের নিজ নিজ দেশ ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ায় ফেরত পাঠানো হচ্ছে, যেখানে তাদের আটক রেখে বিচার প্রক্রিয়া চালানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্প আরও সতর্ক করে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র স্থল বা সমুদ্র—কোনও পথেই মাদকবাহী সন্ত্রাসীদের সহ্য করবে না।”
সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানায়, গত এক মাসে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় সাগরে অন্তত ছয়টি অভিযান পরিচালনা করেছে।
এসব অভিযানের লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবৈধ মাদকবাহী জাহাজ ও সাবমেরিন ধ্বংস করা।
তবে বেশ কয়েকটি অভিযান ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছাকাছি সংঘটিত হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ক্যারিবীয় অঞ্চলে নৌবাহিনীর একটি বড় বহর মোতায়েন করেছে, যার উদ্দেশ্য—মাদক পাচার ও আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন।
তবে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকার অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ মূলত তাদের সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের একটি কৌশল।
এর আগে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের প্রধান পিট হেগসেথ জানান, “যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড অঞ্চলে মাদক চোরাচালানকারী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করতে একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করা হচ্ছে।”
তিনি বলেন, এই টাস্কফোর্সে নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সমন্বিত বাহিনী থাকবে, যারা ক্যারিবীয় অঞ্চলে সক্রিয়ভাবে টহল দেবে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
