ক্যাপিটলে সংঘর্ষ, ইরানের পক্ষে স্লোগান দেওয়ায় সিনেটর আহত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে সিনেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ শুনানির সময় ইরানের পক্ষে স্লোগান দেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে নর্থ ক্যারোলাইনার সিনেট নির্বাচনের গ্রিন পার্টির প্রার্থী ও সাবেক মেরিন সদস্য ব্রায়ান ম্যাকগিনিসের হাত ভেঙে গেছে। ঘটনাটি বুধবার (৪ মার্চ) সেনেট আর্মড সার্ভিসেস সাব-কমিটির শুনানির সময় ঘটে, যেখানে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শুনানির সময় হঠাৎ দাঁড়িয়ে ম্যাকগিনিস বলেন, “ইসরাইল এই যুদ্ধের জন্য দায়ী।” এরপর তাকে কক্ষ থেকে বের করার জন্য ক্যাপিটল পুলিশ এবং রিপাবলিকান সিনেটর টিম শিহি ধস্তাধস্তিতে জড়ান। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ম্যাকগিনিস দরজা আঁকড়ে ধরে চিৎকার করছেন এবং পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির সময় তার ডান হাত ভেঙে যায়। আতঙ্কিত সহকর্মীরা চিৎকার করতে থাকেন। পরে ম্যাকগিনিস স্বীকার করেন, বাম হাতেও গুরুতর আঘাত হয়েছে।

রিপাবলিকান সিনেটর টিম শিহি বলেন, “আমি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছিলাম। ম্যাকগিনিস সংঘর্ষের উদ্দেশ্যে এখানে এসেছিলেন, তাই পুলিশ ও আমার ধস্তাধস্তি এড়ানো সম্ভব হয়নি।” ক্যাপিটল পুলিশ জানায়, তিনি কর্মকর্তাদের ওপর চড়াও হয়েছিলেন এবং সহিংসভাবে বাধা প্রদান করেছিলেন। পুলিশ তার বিরুদ্ধে আক্রমণ, বেআইনিভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং সরকারি কাজের বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা মার্কিন রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং ক্যাপিটলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে প্রকাশ করছে। নির্বাচনী মরশুমে এমন সহিংসতা আইনশৃঙ্খলা এবং পার্লামেন্টের কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

নিচের সারণিতে ঘটনার মূল তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:

বিষয়বিবরণ
ঘটনার তারিখ৪ মার্চ ২০২৬
স্থানক্যাপিটল হিল, সিনেট আর্মড সার্ভিসেস সাব-কমিটি শোনা
প্রার্থীব্রায়ান ম্যাকগিনিস, নর্থ ক্যারোলাইনা, গ্রিন পার্টি
ধস্তাধস্তিতে আহতডান হাত ভাঙা, বাম হাতে গুরুতর আঘাত
পুলিশের মন্তব্যকর্মকর্তাদের ওপর চড়াও এবং সহিংস বাধা
রিপাবলিকান সিনেটর মন্তব্যপরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা, সংঘর্ষ অব্যাহত
অভিযোগআক্রমণ, বেআইনিভাবে বিক্ষোভ, সরকারি কাজের বাধা
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটনির্বাচনী মরশুমে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ক্যাপিটল নিরাপত্তা উদ্বেগ

এই ঘটনার ফলে মার্কিন রাজনীতিতে সহিংসতার ঝুঁকি এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার ওপর নতুন প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসন, ক্যাপিটল পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, নির্বাচনী সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতা এড়াতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জরুরি।