কোস্টগার্ডের অভিযানে ছাত্রদল নেতাসহ আটক ৩

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে একটি বালুবোঝাই বাল্কহেড থেকে চাঁদা আদায়ের সময় ছাত্রদলের এক নেতাসহ তিনজনকে হাতেনাতে আটক করার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি, ছাত্রদল এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, চাঁদাবাজির অভিযোগটি মিথ্যা ও বানোয়াট এবং অভিযান পরিচালনাকারী কোস্টগার্ড কর্মকর্তা ছিলেন ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে উপজেলা, পৌর ও কলেজ শাখা ছাত্রদল আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইরাজ মাহমুদ। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মো. শিরাজ উদ্দিন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুর্তুজা আল আমিন, উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. শিব্বিরসহ বিএনপি, ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আলেকজান্ডার আসলপাড়া লঞ্চঘাট এলাকা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে আলেকজান্ডার আ স ম আবদুর রব সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক তৌহিদুল ইসলাম নয়ন এবং তার দুই সহযোগীকে আটক করে কোস্টগার্ড। কোস্টগার্ড দাবি করে, তাদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের রশিদও উদ্ধার করা হয়েছে। পরে এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

ঘটনার পরদিন উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, নয়ন সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সমর্থকদের বিরুদ্ধে ফেসবুক লাইভে কথা বলেছিলেন। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তারা আরও দাবি করেন, কোস্টগার্ডের গোয়েন্দা সংস্থার ফিল্ড স্টাফ (এফএস) মো. সোহান ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন এবং স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে অর্থের বিনিময়ে অভিযানে নেতৃত্ব দেন। আটক হওয়ার পর নয়ন ও তার সহযোগীদের রামগতি স্টেশন ক্যাম্পে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয় এবং পায়ের নখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।

অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে কোস্টগার্ড রামগতি স্টেশন কমান্ডার আব্দুস শহীদ বলেন, নয়ন ও তার সহযোগীরা কয়েক দিন ধরে চাঁদা আদায় করছিল—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। ঘটনার দিন সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয় এবং টাকা আদায়ের রশিদ উদ্ধার করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে করা অভিযোগগুলো সত্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

এসএস