সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান সংশ্লিষ্ট এক ঘটনায় এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে মাদক সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার সময় ভারতীয় খাসিয়া সম্প্রদায়ের সদস্যদের ছোড়া গুলিতে তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে। সীমান্তসংলগ্ন চংকেটের বাগান ও মারকানের বাগানের মধ্যবর্তী একটি জঙ্গলাকীর্ণ এলাকায় এই সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্র ও সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীর ৪৮তম ব্যাটালিয়নের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত ব্যক্তির নাম সালেহ আহমেদ জয়ধর (৩০)। তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দয়ারবাজার এলাকার কারবালারটুক গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার সময় তার সঙ্গে আরও দুইজন সহযোগী ছিলেন। তারা হলেন নাজিরগাঁও গ্রামের মো. সুমন মিয়া (২৫) এবং একই এলাকার মো. মাসুম আহম্মদ (২০)। জানা যায়, তারা তিনজনই অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করে মাদকের একটি চালান সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সেখানে যান।
সীমান্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তারা ভারতের অভ্যন্তরে সুপারি বাগান এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় স্থানীয় খাসিয়া সম্প্রদায়ের কিছু সদস্য তাদেরকে চোর সন্দেহ করে ছররা গুলি ছোড়ে। একাধিক রাউন্ড গুলিবর্ষণের ফলে সালেহ আহমেদ গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।
ঘটনার পর জীবিত দুই সহযোগী দ্রুত মরদেহ উদ্ধার করে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন বলে জানা যায়। পরে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়।
ঘটনাটির সারসংক্ষেপ নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহত ব্যক্তির নাম | সালেহ আহমেদ জয়ধর (৩০) |
| সহযোগী ব্যক্তিবর্গ | মো. সুমন মিয়া (২৫), মো. মাসুম আহম্মদ (২০) |
| ঘটনার স্থান | সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তসংলগ্ন এলাকা |
| ঘটনার সময় | বৃহস্পতিবার, রাত সাড়ে আটটার দিকে |
| ঘটনার ধরন | অবৈধ সীমান্ত অতিক্রমকালে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণ |
| সংশ্লিষ্ট পক্ষ | ভারতীয় খাসিয়া সম্প্রদায়ের কিছু সদস্য |
| ব্যবহৃত অস্ত্র | ছররা গুলি ছোড়ার অস্ত্র |
| ফলাফল | একজন নিহত, দুইজন জীবিত |
সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীর ৪৮তম ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নাজমুল হক জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে নিহতসহ তিনজনই মাদক সংগ্রহের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্থানীয়ভাবে এ ধরনের চোরাচালান কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলমান রয়েছে এবং এতে সীমান্ত এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
ঘটনার পর সীমান্তবর্তী এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধে নজরদারি আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
