কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়ায় বালু উত্তোলন অভিযোগ

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া নির্বাচনী এলাকায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এস এম জেলানির আত্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে স্থানীয় ঠিকাদার শফিক বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শফিক বিশ্বাস তার মালিকানাধীন জমির পাশের এলাকায় অনুমোদন ছাড়াই বালু উত্তোলন করছেন, যা পরিবেশ, কৃষি জমি এবং জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকিস্বরূপ।

এলাকার সাধারণ মানুষ জানিয়েছেন, যেসব ব্যক্তি এই কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন, তাদের উপর হুমকি ও ভয়ভীতি প্রয়োগ করা হচ্ছে। এতে স্থানীয়রা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তারা মনে করছেন, জনপ্রতিনিধির আত্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে ক্ষমতার অপব্যবহার হলে তা আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ বালু উত্তোলন নদী তীরের ক্ষয়, জলাশয় সংকোচন এবং কৃষিভূমির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে। বর্ষার সময় এটি বন্যার ঝুঁকি বাড়ায় এবং নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের জীবন ও সম্পদ বিপন্ন করতে পারে।

স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করছেন এবং নিম্নলিখিত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন:

  • অবৈধ বালু উত্তোলন অবিলম্বে বন্ধ করা

  • হুমকি ও ভয়ভীতি সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত চালানো

  • দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ

নিম্নলিখিত টেবিলে অভিযোগকৃত কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো:

স্থানঅভিযোগের ধরনঅভিযুক্ত ব্যক্তিপ্রভাব/পরিণতিস্থানীয় প্রতিক্রিয়া
টুঙ্গিপাড়া, কোটালীপাড়াঅবৈধ বালু উত্তোলনশফিক বিশ্বাসপরিবেশ ও কৃষি জমি ক্ষতিগ্রস্তএলাকাবাসী উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ
কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়াহুমকি ও ভয়ভীতিঅপরিচিত ব্যক্তি, অভিযোগে এমপির আত্মীয়ের প্রভাবআইন ও ন্যায়বিচার বিপন্নপ্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ চাওয়া

গণ্যমান্য ব্যক্তিরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যদি অবৈধ কার্যক্রম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা না হয়, তবে তা এলাকার সামাজিক স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানিয়েছেন যে, বিষয়টি তদন্তের জন্য কর্মকর্তারা পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমানে কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া এলাকার সাধারণ মানুষ প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপের প্রত্যাশায় রয়েছে। তারা আশা করছেন, দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ অবৈধ বালু উত্তোলন ও হুমকির বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনবেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।