কোচহীন রেনের কাছে পিএসজির লজ্জাজনক হার

ইতিহাসগড়া এক মৌসুমের পর নতুন অধ্যায়ে এসে যেন ছন্দ হারিয়েছে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইন (প্যারিস সাঁ জার্মাঁ)। ফ্রান্সের শীর্ষ ফুটবল প্রতিযোগিতা লিগ আঁ–এর সাম্প্রতিক ম্যাচে কোচবিহীন ও টানা পাঁচ ম্যাচ জয়হীন স্তাদ রেনে-এর কাছে ৩–১ গোলের অপ্রত্যাশিত পরাজয় বরণ করেছে পিএসজি। ম্যাচের মাত্র এক সপ্তাহ আগে রেন তাদের কোচ হাবিব বেয়েকে বরখাস্ত করে। বর্তমানে দলটির কোনো স্থায়ী কোচ নেই। এমন পরিস্থিতিতে রেনের এই জয় ফুটবল অঙ্গনে বড় বিস্ময় হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

চ্যাম্পিয়নস লীগের প্লে-অফ সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিতে লিগের ম্যাচটি এগিয়ে আনে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। টানা সাত ম্যাচ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে তারা রেনের মাঠে নামে। তবে কাগজে-কলমে আধিপত্য বিস্তার করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি সফরকারীরা।

পুরো ম্যাচে ৬৯ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে পিএসজি। ১৭টি শট নিয়ে ৭টি লক্ষ্যে রাখলেও গোল করতে সক্ষম হয় মাত্র একবার। বিপরীতে রেন ১৩টি শট নিয়ে ৪টি লক্ষ্যে রেখে তিনটি গোল আদায় করে নেয়। রেনের গোলরক্ষক ব্রিস সাম্বা ছিলেন ম্যাচের অন্যতম নায়ক; একে একে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রক্ষা করে তিনি পিএসজির একাধিক নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেন।

ম্যাচের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান

সূচকরেনপিএসজি
বল দখল৩১ শতাংশ৬৯ শতাংশ
মোট শট১৩১৭
লক্ষ্যে শট
গোল
উল্লেখযোগ্য গোলরক্ষা৬ (সাম্বা)

ম্যাচের ৩৪তম মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে গড়ে ওঠা আক্রমণ থেকে মুসা আল-তামারি গোল করে রেনকে এগিয়ে দেন। বিরতির পর ৬৯তম মিনিটে কর্নার থেকে হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এসতেবান লেপল। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে পিএসজি আক্রমণের গতি বাড়ায়। ৭১তম মিনিটে উসমান দেম্বেলের গোলে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত মিললেও ৮১তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে ব্রিল এমবোলো গোল করে সফরকারীদের আশা চূর্ণ করে দেন।

ম্যাচ শেষে পিএসজি কোচ লুইস এনরিক বলেন, এই ফল দলকে হতাশ করেছে এবং উন্নতির প্রয়োজন স্পষ্ট। তাঁর মতে, এমন ফলাফল প্রতিপক্ষের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়, যা ভবিষ্যৎ ম্যাচগুলোকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। দেম্বেলেও গত মৌসুমের ঐক্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, দলীয় স্বার্থকে সবার আগে রাখতে হবে, বিশেষ করে মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে।

সামনে গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা। এই পরাজয় পিএসজির জন্য স্পষ্ট সতর্কবার্তা—বল দখল বা পরিসংখ্যানগত প্রাধান্য নয়, কার্যকারিতাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। এখন দেখার বিষয়, এই ধাক্কা কাটিয়ে কত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা।