কে পেল বছরের সেরা রপ্তানিকারকের সম্মান? তালিকা দেখে চমকে যাবেন!

বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে ‘এইচএসবিসি এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’-২০২৫ অর্জন করেছে দেশের চার শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান। রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর র‍্যাডিসন ব্লু হোটেলে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্ণধারদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সরকারের নীতি-নির্ধারক, আন্তর্জাতিক অতিথি ও ব্যাংকিং খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা। এটি ছিল এইচএসবিসির নবম আয়োজন।

চার শ্রেণিতে চার বিজয়ী

এ বছর চারটি আলাদা ক্যাটাগরিতে রপ্তানি আয়ে বিশেষ অবদান রাখায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুরস্কৃত করা হয়েছে—
১️⃣ ফ্লামিংগো ফ্যাশনস (ডিবিএল গ্রুপ) – বছরে ১০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি রপ্তানি আয়ের প্রতিষ্ঠান হিসেবে
২️⃣ এনজেড টেক্স গ্রুপ – বছরে ৫ কোটি ডলারের বেশি আয়ের সংযোগ শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে
৩️⃣ জনতা জুট মিলস ও সাদাত জুট ইন্ডাস্ট্রিজ (আকিজবশির গ্রুপ) – বছরে ১ কোটি ডলারের বেশি রপ্তানিকারক উদীয়মান বস্ত্র–উৎপাদন প্রতিষ্ঠান হিসেবে
৪️⃣ উল্কাসেমি প্রাইভেট লিমিটেড – সেবা খাতে বছরে ৫০ লাখ ডলারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকারী সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে

প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্জন ও গুরুত্ব

ফ্লামিংগো ফ্যাশনস বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশের শীর্ষ ব্র্যান্ডে পোশাক রপ্তানি করে থাকে। প্রতিষ্ঠানের রয়েছে ১১৮টি উৎপাদন লাইন এবং বছরে ৪ কোটি ৪০ লাখ পিস পোশাক উৎপাদনের সক্ষমতা। টেকসই উৎপাদন তাদের অন্যতম শক্তি—৬০% কাঁচামাল তারা নিজেরাই উৎপাদন করে, পাশাপাশি ব্যবহার করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পানির পুনর্ব্যবহার প্রযুক্তি।

এনজেড টেক্স গ্রুপ উচ্চমানের সুতা ও কাপড় উৎপাদনে পরিচিত। বছরে ৫২ হাজার টন সুতা উৎপাদনের সক্ষমতা নিয়ে তারা আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে।

জনতা জুট মিলসসাদাত জুট ইন্ডাস্ট্রিজ প্রচলিত পাটপণ্যের পাশাপাশি বৈচিত্র্যপূর্ণ ও উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনে সক্ষমতা দেখিয়েছে। বর্তমানে তারা প্রায় ৯০টি দেশে পণ্য রপ্তানি করছে—বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পাটশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে তাদের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

উল্কাসেমি প্রাইভেট লিমিটেড, তুলনামূলক নতুন হলেও, সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন খাতে দ্রুত জায়গা করে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, তাইওয়ান, ভারতসহ বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো তাদের গ্রাহক, যা দেশের সেবা রপ্তানি খাতের সম্ভাবনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন—
“উদ্যোক্তারা সময়ের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে জানেন। সরকার সবসময় তাদের পাশে রয়েছে।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন—
“রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণের মাধ্যমে আরও বাজার সম্প্রসারণ সম্ভব। সামনে বিস্তৃত সুযোগ রয়েছে।”

এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মাহবুব উর রহমান বলেন—
“রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পেতে সঠিক বাজার, সঠিক গন্তব্য এবং বাণিজ্য কূটনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।”

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক বাংলাদেশের প্রতি যুক্তরাজ্যের দীর্ঘ মেয়াদি সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন।

বর্তমান চ্যালেঞ্জ: উদ্যোক্তাদের অভিমত

অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তাদের কাছে যখন বর্তমান চ্যালেঞ্জ জানতে চাওয়া হয়, তখন হা-মীম গ্রুপের এমডি এ কে আজাদ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ভুয়া মামলা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেন—
“নির্বাচন হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এটাই এখন সবচেয়ে প্রয়োজন।”

সামগ্রিকভাবে এইচএসবিসির এই সম্মাননা শুধু প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্জন নয়, বরং বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের সক্ষমতারও স্বীকৃতি।