কেরানীগঞ্জে শিক্ষক ও পিতার ওপর হামলা

ঢাকার কেরানীগঞ্জে মাদকসেবনের প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক সহযোগী অধ্যাপক এবং তাঁর পিতা ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষাঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযুক্ত এহসানুর হক মাহিম (২২) ঘটনাস্থলেই আটক হয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ হন।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগপত্র অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর বাড়ির গলির আশপাশে নিয়মিত আড্ডা দিতেন। সেখানে মাদকসেবন ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার নিষেধ করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বরং প্রতিবাদ করায় ভুক্তভোগী শিক্ষকের পিতা মো. নজরুল ইসলাম (৬৭)-কে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে সাতটার দিকে ওই এলাকায় আবারও আড্ডা বসে। ভুক্তভোগী পরিবার বিষয়টি দেখতে পেয়ে বাধা দিলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে বৃদ্ধ নজরুল ইসলামের ওপর হামলা চালান। তাকে মাটিতে ফেলে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মারলে তিনি গুরুতর আহত হন। আঘাতে তাঁর মুখমণ্ডলের একাংশ ও চোখের নিচে রক্তাক্ত জখম হয়।

এরপর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ওই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তাকে মাটিতে ফেলে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয় এবং মুখমণ্ডল ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এতে তাঁর চশমা ভেঙে যায় এবং তিনি গুরুতরভাবে আহত হন।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তবে ঘটনার পর থানায় মামলা গ্রহণ না করে শুধুমাত্র সাধারণ ডায়েরি নেওয়া হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পক্ষ অভিযোগ করেছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।

ঘটনার ধারাবাহিক সময়ক্রম নিচে উপস্থাপন করা হলো—

সময়ঘটনার বিবরণ
সন্ধ্যা আনুমানিক ৭:৪৫গলিতে আড্ডা ও মাদকসেবনের অভিযোগ
কিছুক্ষণ পরভুক্তভোগী পরিবারের প্রতিবাদ
তাৎক্ষণিকপ্রথমে পিতার ওপর হামলা
পরবর্তী সময়শিক্ষকের ওপর শারীরিক আক্রমণ
পরেস্থানীয়দের হস্তক্ষেপ ও অভিযুক্ত আটক

ঘটনার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং আদালত প্রাঙ্গণেও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিষয়টি যথাযথভাবে গুরুত্ব না পাওয়ায় অপরাধী আইনের ফাঁক গলে যেতে পারে।

ভুক্তভোগী শিক্ষক রাইসুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়ের করবেন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। তিনি আরও বলেন, সামাজিকভাবে মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় তাদের ওপর এই হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

ঢাকা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পরপরই অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জ এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।