টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা ও বিতর্কের মধ্যেই বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক আসিফ আকবর। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত কোনো একক সংস্থার নয়; বরং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রাপ্ত গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বকাপে ভারতের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের জন্য বিসিবি শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) এ বিষয়ে সময়ও দিয়েছিল, যাতে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো যায়। কিন্তু নিরাপত্তা ইস্যুতে সরকারের অবস্থান কঠোর থাকায় শেষ পর্যন্ত আইসিসি ও বিসিবি উভয়েই নিজ নিজ সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। ফলাফল হিসেবে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশকে দেখা যাচ্ছে না।
ঘটনার সূত্রপাত মূলত ৩ জানুয়ারি, যখন মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই নিরাপত্তা নিয়ে নানা প্রশ্ন সামনে আসতে থাকে। ২২ জানুয়ারি ঢাকার একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল স্পষ্ট করে জানান, ভারত সফর না করার সিদ্ধান্তটি সরকারিভাবেই নেওয়া হয়েছে এবং এর মূল কারণ নিরাপত্তা ঝুঁকি।
২৪ জানুয়ারি বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভায় বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসিফ আকবর বলেন, সরকারের কাছে একটি বিস্তারিত গোয়েন্দা প্রতিবেদন ছিল। সেই প্রতিবেদনে খেলোয়াড়, টিম অফিসিয়াল, সাংবাদিক ও দর্শকদের সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো নাশকতামূলক ঘটনা ঘটলে তার দায়ভার নেওয়া সম্ভব নয় বলেই সরকার ঝুঁকি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
আসিফ আকবর আরও জানান, এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তথ্য, পররাষ্ট্র, ক্রীড়া ও আইন—এই চারটি মন্ত্রণালয় একসঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করে। ক্যাবিনেট পর্যায়ে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তিনি বলেন, আইসিসি ও বিসিবি আন্তর্জাতিক সংস্থা হলেও রাষ্ট্রের মতো করে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনার ক্ষমতা তাদের নেই।
প্রায় ২১ দিনের টানাপোড়েনের পর আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের তালিকা থেকে বাংলাদেশের নাম বাদ দেয়। বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন সূচি ঘোষণা করা হয়।
নিচের টেবিলে বর্তমান পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| বাংলাদেশ বাদ পড়ার কারণ | নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি |
| সিদ্ধান্তে যুক্ত মন্ত্রণালয় | তথ্য, পররাষ্ট্র, ক্রীড়া, আইন |
| বাংলাদেশের পরিবর্তে দল | স্কটল্যান্ড |
| স্কটল্যান্ডের টি–টোয়েন্টি র্যাংকিং | ১৪ |
| ‘সি’ গ্রুপের দল | ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল, ইতালি, স্কটল্যান্ড |
‘সি’ গ্রুপে স্কটল্যান্ডের সঙ্গে খেলবে সাবেক দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাশাপাশি নেপাল ও নবাগত ইতালি। এভাবে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নেওয়া রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে একটি বড় টুর্নামেন্ট মিস করল বাংলাদেশ, যা দেশের ক্রিকেটে দীর্ঘদিন আলোচিত হয়ে থাকবে।
