কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আরও দুই শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে মধ্যরাত সাড়ে ১২টার মধ্যে এই দু’টি ঘটনা সংঘটিত হয়। এ নিয়ে জেলায় হাম উপসর্গ নিয়ে মোট চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
মৃত শিশুদের মধ্যে একজন হলো আট মাস বয়সী ইব্রাহিম, যিনি দৌলতপুর উপজেলার চঞ্চল হোসেনের ছেলে। ইব্রাহিম শুক্রবার বিকেলে হাম ও নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। অন্য শিশু আইজা, পাঁচ মাস ২০ দিন বয়সী, মমিনুর রহমানের কন্যা এবং কুষ্টিয়া শহরের রেনউইক এলাকার বাসিন্দা। আইজা ৩০ মার্চ থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর আগে শুক্রবার ভোরে আফরান নামে আরও এক শিশু মারা যায়, যার বয়স আট মাস।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার হোসেন ইমাম বলেন, ইব্রাহিম দুপুর সাড়ে ৩টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। শিশু হাম ও নিউমোনিয়ার সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে শ্বাসকষ্টের সঙ্গে হাসপাতালে আসে। হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. এ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আইজা ৩০ মার্চ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এবং দীর্ঘ চিকিৎসার পর শুক্রবার মারা যায়।
জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২০ জন রোগী হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। জেলায় বর্তমানে ৩২০ জন রোগীর মধ্যে ২৩০ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে চারজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ভর্তি থাকা শিশুদের মধ্যে ৫–৬ জনের অবস্থা গুরুতর বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
নিম্নলিখিত টেবিলে সাম্প্রতিক হাম সংক্রমণের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হলোঃ
| তারিখ | নতুন ভর্তি শিশু | মোট শনাক্ত রোগী | হাসপাতালের ভর্তি | মৃত্যু | গুরুতর অবস্থায় শিশু |
|---|---|---|---|---|---|
| ৩০ মার্চ | ১ | ২৮০ | ২২০ | ২ | ৫ |
| ৩ এপ্রিল | ২০ | ৩২০ | ২৩০ | ৪ | ৫–৬ |
চিকিৎসকরা জানান, শিশুদের সঠিক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে। জেলায় হাম প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সচেতনতা কার্যক্রম চালাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের সতর্ক করেছেন, শিশুদের জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা খিঁচুনি দেখা দিলে অবিলম্বে হাসপাতালে আনার জন্য।
স্থানীয় প্রশাসনও হাসপাতালে সমন্বয় রেখে আক্রান্ত এলাকায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত ডাক্তার ও মেডিকেল সরঞ্জাম নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বারবার অভিভাবকদের সতর্ক করে বলেছেন, শিশুদের জনসমাগম এড়ানো এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই পরিস্থিতিতে জেলা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সবাইকে সতর্ক করেছেন, শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ নজর দিতে হবে। হাসপাতালে চিকিৎসকরা ২৪ ঘণ্টা রোগীদের পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা জোরদার রাখছেন। স্বাস্থ্য বিভাগও শিশুদের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।
