কুষ্টিয়ার সীমান্ত এলাকা থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এক বিস্তৃত অভিযানের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান সামগ্রী উদ্ধার করেছে। জব্দকৃত এলএসডি, ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট, ফেয়ারডিল সিরাপ ও অন্যান্য পণ্যের আনুমানিক বাজার মূল্য ৬ কোটি ২৬ লাখ ৮০ হাজার ৫৮৫ টাকা। এই অভিযান স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বুধবার (২৪ মার্চ) দুপুরে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি একটি বিশেষ টহল দল মিরপুর রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান চালায়। রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনে তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১২ বোতল ভারতীয় এলএসডি উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বোতলে ৫০ মিলি এলএসডি ছিল। জব্দকৃত এলএসডির বাজার মূল্য প্রায় ৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
একই দিনে ভোরে পৃথক দুটি অভিযানে দৌলতপুর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ মাঠ এবং প্রাগপুর নদীর ঘাট এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট, ফেয়ারডিল সিরাপ ও পাতার বিড়ি জব্দ করা হয়। বিজিবি জানায়, এসব পণ্য চোরাচালানের উদ্দেশ্যে সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছিল।
উদ্ধারকৃত মাদক ও চোরাচালান সামগ্রীর বিস্তারিত
| পণ্য | পরিমাণ | আনুমানিক বাজার মূল্য |
|---|---|---|
| এলএসডি বোতল | ১২ বোতল (প্রতিটি ৫০ মিলি) | ৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা |
| ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট | বিপুল পরিমাণ | ১ লাখ টাকা |
| ফেয়ারডিল সিরাপ | বিপুল পরিমাণ | ৫০ হাজার টাকা |
| পাতার বিড়ি | বিপুল পরিমাণ | ৩০ হাজার টাকা |
বিজিবি কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের কমান্ডার জানান, “সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এই ধরনের অভিযান অপরাধীদের কার্যক্রম সীমিত করতে সহায়তা করছে এবং স্থানীয়দের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করছে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সীমান্ত এলাকা থেকে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে এই অভিযান শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করেই থেমে থাকে না, বরং সাধারণ জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও কার্যকর।
কুষ্টিয়ার প্রশাসন জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় টহল আরও বৃদ্ধি করা হবে এবং অভিযানে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে সচেতন করতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই অভিযান প্রমাণ করে, কুষ্টিয়া সীমান্ত এলাকায় বিজিবির কার্যক্রম দক্ষ ও ফলপ্রসূ। দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে মাদক ও চোরাচালান দমন নীতি আরও কার্যকর হবে।
