কুলাউড়ায় নিখোঁজ যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় নিখোঁজের একদিন পর রিপন মিয়া (২৭) নামে এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে টিলাগাঁও ইউনিয়নের চক সালন বাঘেরটেকি এলাকায় মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ঢালের ঝোপ থেকে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় এই ধরনের ঘটনা জনজীবনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

নিহত রিপন মিয়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী আলীনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং হানু মিয়ার ছেলে। পুলিশ ও স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সোমবার (৯ মার্চ) রাতে ইফতার শেষে রিপন স্থানীয় দিঘিরপাড় বাজারে যান। রাত সাড়ে ১১টার পর তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর স্বজনরা তাকে খুঁজতে বাজার, বাড়ি এবং আশেপাশের এলাকা ঘুরেও তাকে খুঁজে পাননি।

পরবর্তীতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্থানীয়রা নদীর পাড়ে এক যুবকের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে স্বজনরা মরদেহটি রিপন মিয়া হিসেবে শনাক্ত করেন। কুলাউড়া থানার ওসি মনিরুজ্জামান মোল্ল্যা জানান, “মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পুলিশ প্রাথমিকভাবে হত্যার ঘটনা সন্দেহ করছে। তবে সঠিক কারণ এবং হত্যার ধরন নির্ধারণে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করতে হবে। স্থানীয়রা নিরাপত্তা এবং শান্তি পুনরায় প্রতিষ্ঠার জন্য পুলিশের কার্যক্রমে মনোযোগী হয়েছেন।

নিচের টেবিলে ঘটনার মূল তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:

তথ্যের ধরনবিস্তারিত তথ্য
নিহতের নামরিপন মিয়া
বয়স২৭ বছর
গ্রামের নামআলীনগর, পৃথিমপাশা ইউনিয়ন, কুলাউড়া
পিতার নামহানু মিয়া
নিখোঁজ হওয়ার তারিখ৯ মার্চ, ২০২৬
মরদেহ উদ্ধার তারিখ১০ মার্চ, ২০২৬
উদ্ধার স্থানচক সালন বাঘেরটেকি, মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ
মরদেহের অবস্থাক্ষতবিক্ষত
পুলিশ মন্তব্যময়নাতদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ হবে

স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে, বিশেষ করে নদীর পাড় ও বাজার সংলগ্ন এলাকায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং তদন্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তৎপর। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এলাকার যুবকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে হবে।

মৌলভীবাজারে এই ধরনের রহস্যজনক হত্যার ঘটনা সমাজে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের সনাক্তকরণ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।