মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের ইছাছড়া খাসিয়াপুঞ্জিতে এক চাষি অনন্তর সহস্রাধিক পানগাছ অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের দ্বারা কেটে ফেলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষি রোববার সন্ধ্যায় কুলাউড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
পুঞ্জির বাসিন্দাদের এবং চাষির অভিযোগ অনুযায়ী, ইছাছড়া পুঞ্জিতে খাসিয়া সম্প্রদায়ের ৪৬টি পরিবার বসবাস করে। এই সম্প্রদায়ের লোকজনের একমাত্র আয়ের উৎস হল পান চাষ। টিলাভূমির জমিগুলো পরিবার অনুযায়ী ভাগ করা এবং প্রতিটি পরিবারের নিজস্ব চাষের জায়গা রয়েছে। অনন্তর জমিতে প্রায় দেড় হাজার পানগাছ ছিল। রোববার সকালে জমিতে গিয়ে তিনি দেখেন গাছের গোড়া কেটে ফেলা অবস্থায় পড়ে আছে। খবর পেয়ে তিনি পুঞ্জির অন্যান্য সদস্য এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যকে বিষয়টি জানান।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, শনিবার গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটতে পারে। এতে অনন্তর আনুমানিক ক্ষতি হয়েছে আড়াই লাখ টাকা। তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের কোনো কনফ্লিক্ট বা বিরোধ আমার কারও সঙ্গে নেই।”
পুঞ্জির সহকারী মন্ত্রী (পুঞ্জিপ্রধান) জামাল মার্লিয়ার বলেন, “কয়েক বছর ধরে আমাদের পুঞ্জিতে এমন ঘটনা ঘটছে। কে বা কারা এটি করছেন এবং কেন করছেন তা আমরা জানি না। পুলিশ তদন্তে বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে আমরা আশা করছি।”
কুলাউড়া থানার উপপরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পানগাছ ক্ষতির তথ্যসংগ্রহ
| চাষির নাম | মোট গাছ | ক্ষতিগ্রস্ত গাছ | আনুমানিক ক্ষতি (টাকা) | পরিবারের সংখ্যা | পুঞ্জির নাম |
|---|---|---|---|---|---|
| অনন্ত | 1,500 | 1,200 | 2,50,000 | 46 | ইছাছড়া |
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনার কারণে খাসিয়া সম্প্রদায়ের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে এই সম্প্রদায়ের লোকেরা পান চাষের ওপর নির্ভরশীল। হঠাৎ গাছের ক্ষতি তাদের আয়ের ধারাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে।
পুঞ্জির নেতারা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা চাষিদের সতর্ক করেছেন, ক্ষতি তৎক্ষণাত পুলিশে জানানো এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। প্রশাসনও নিশ্চিত করেছে যে, পুঞ্জিতে নিয়মিত পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হবে এবং এই ধরনের ঘটনায় দায়ীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।
খাসিয়াপুঞ্জির মানুষদের মতে, পান চাষে এই ধরনের ক্ষতি শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং সমগ্র সম্প্রদায়ের জীবিকা ও নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুতর সতর্কবার্তা। অনন্তর উদাহরণ থেকে বোঝা যাচ্ছে, প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা ও চাষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সম্প্রদায়ের একযোগিতার প্রয়োজন অত্যন্ত জরুরি।
মৌলভীবাজারের দুর্গম এলাকায় এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না ঘটার জন্য তৎপর হওয়া না গেলে সম্প্রদায়ের অর্থনৈতিক জীবন এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
