কুয়াকাটায় ভাড়া বাসায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

পটুয়াখালীর পর্যটন এলাকা কুয়াকাটায় একটি ভাড়া বাসা থেকে আরিফা আক্তার (প্রায় ২২) নামে এক গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মঙ্গলবার সকালে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে নিহতের স্বামী রিফাত হাওলাদারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে কুয়াকাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুস সাত্তারের মালিকানাধীন একটি ভাড়াটিয়া বাসা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় আরিফার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে ওই বাসা থেকে হঠাৎ কান্নাকাটির শব্দ শোনা গেলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে যান। ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে তারা বিছানার পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় আরিফাকে পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তার স্বামী রিফাত পাশে বসে কান্না করছিলেন।

নিহত আরিফা আক্তার বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার টরকি বন্দরের বারোগতি এলাকার বাসিন্দা খালেক হাওলাদারের মেয়ে। তার স্বামী রিফাত একই এলাকার মৃত আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের ছেলে। পুলিশ জানায়, প্রায় চার মাস আগে তারা নিজ এলাকা ছেড়ে কুয়াকাটায় এসে বসবাস শুরু করেন। প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হওয়ায় উভয় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ তুলনামূলকভাবে কম ছিল বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, রিফাত কুয়াকাটার একটি রেস্তোরাঁয় কর্মরত ছিলেন। দাম্পত্য জীবনে তাদের মধ্যে প্রায়ই মনোমালিন্য ও ঝগড়া হতো। ঘটনার রাতে কীভাবে এই মৃত্যু ঘটেছে—তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে গলাকাটা অবস্থায় মরদেহ পাওয়ায় ঘটনাটিকে পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত খান জানান, প্রাথমিকভাবে স্বামী রিফাতের কথাবার্তা অসংলগ্ন ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এটি হত্যাকাণ্ড কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য :

বিষয়বিবরণ
নিহতের নামআরিফা আক্তার
বয়স (আনুমানিক)২২ বছর
ঘটনা স্থানকুয়াকাটা পৌরসভা, ৩ নম্বর ওয়ার্ড
মরদেহ উদ্ধারের সময়সোমবার রাত সাড়ে ১১টা
সন্দেহভাজনস্বামী রিফাত হাওলাদার
তদন্তকারী থানামহিপুর থানা

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক কলহ, মানসিক চাপ কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না—সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চালানো হচ্ছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত সত্য উদঘাটন হবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।