কুমিল্লা সীমান্তে ৫৯ লাখ টাকার জব্দ

কুমিল্লা সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযানে প্রায় ৫৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের অবৈধ ভারতীয় শাড়ি ও সিগারেট জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে পরিচালিত এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ পণ্য উদ্ধার করা হলেও চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

বিষয়টি একই দিন বিকেলে নিশ্চিত করেন কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি)-এর কোম্পানি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ। তিনি জানান, কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার বিওপির আওতাধীন কটকবাজার পোস্টের একটি বিশেষ টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালায়। ভোরের অন্ধকারে সীমান্তরেখা থেকে আনুমানিক ৫০০ গজ অভ্যন্তরে বাগবেড় এলাকায় কয়েকটি বস্তা ও কার্টন সন্দেহজনক অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।

পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেট উদ্ধার করা হয়। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা দ্রুত মালামাল ফেলে পালিয়ে যায় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকৃত পণ্য জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

জব্দকৃত পণ্যের প্রাথমিক হিসাব

পণ্যের ধরনআনুমানিক পরিমাণসম্ভাব্য মূল্য (টাকা)
ভারতীয় শাড়িউল্লেখযোগ্য পরিমাণপ্রায় ৪০,০০,০০০
ভারতীয় সিগারেটউল্লেখযোগ্য পরিমাণপ্রায় ১৯,৮০,০০০
মোট৫৯,৮০,০০০

(বিজিবি প্রদত্ত প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী)

সীমান্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কুমিল্লা সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালানকারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সক্রিয় রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষত ভারতীয় শাড়ি, প্রসাধনী সামগ্রী, সিগারেট ও অন্যান্য ভোগ্যপণ্য অবৈধভাবে দেশে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়। এসব পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক ও কর ফাঁকি দিয়ে চোরাচালান চক্র বিপুল আর্থিক লাভ করে থাকে। এর ফলে একদিকে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়, অন্যদিকে বৈধ আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েন।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পণ্য প্রবেশ শুধু রাজস্ব ক্ষতিই করে না; বরং দেশের বাজারব্যবস্থা ও ভোক্তা সুরক্ষার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অনুমোদনবিহীন সিগারেট ও ভোগ্যপণ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ কারণে সীমান্তে নজরদারি জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মাদক পাচার ও অবৈধ পণ্য প্রবেশ রোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। নিয়মিত টহল, বিশেষ অভিযান এবং তথ্যভিত্তিক কার্যক্রমের মাধ্যমে চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বাহিনীর অন্যতম অগ্রাধিকার বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন।

স্থানীয় প্রশাসন, কাস্টমস বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করেছে।