কুমিল্লার দৌদকান্দিতে মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত

সোমবার ভোরে কুমিল্লার দৌদকান্দি উপজেলায় একটি মাইক্রোবাস ও একটি অজানা গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজনের মৃত্যু ঘটে। ধানকড়া এলাকা সংলগ্ন ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিকের গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষ করে। সংঘর্ষের ফলে মাইক্রোবাসের সামনের অংশ সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়।

কুমিল্লা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ ইকবাল বাহার মজুমদার জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের কাছের হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই দুজনেরই মৃত্যু ঘটে।

নিহতদের পরিচয় ও তথ্য নিম্নরূপ:

নামবয়সপেশাঠিকানা
মোঃ শাহিন৪০মাইক্রোবাস চালকব্রাহ্মণপাড়া, কুমিল্লা
ইব্রাহিম হোসেন১৫ছাত্রব্রাহ্মণপাড়া, কুমিল্লা

পুলিশ জানায়, মাইক্রোবাসটি উচ্চ গতিতে চলছিল। নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে এটি বিপরীতমুখী গাড়ির সঙ্গে আঘাত হয়, যা সামনের অংশ সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলে। ওসি মজুমদার বলেন, “আমাদের টিম রিপোর্ট পাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করার চেষ্টা করে। দুর্ভাগ্যবশত, দুজনই হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই প্রাণ হারান। এখন তাদের দেহ পরিবারকে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।”

দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে অজানা কারণে মৃত্যু মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে, যাতে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা যায়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের এই অংশটি দুর্ঘটনার জন্য পরিচিত, বিশেষ করে দ্রুতগতির যানবাহনের জন্য।

স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ড্রাইভারদের সচেতন থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। গাড়ির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা, নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা এবং সতর্কতা অবলম্বন অপরিহার্য। এছাড়া, স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কে আরও উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।

দৌদকান্দির এই দূর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা দেশের ব্যস্ততম মহাসড়কগুলোর একটি হওয়ার কারণে সড়ক নিরাপত্তা, দ্রুত পুলিশ সাড়া এবং কঠোর গতিসীমা নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব পুনরায় মনে করিয়ে দিয়েছে।