কুমিল্লায় ৪০ সড়কে বাস চলাচল বন্ধের হুঁশিয়ারি, দাবি না মানলে ধর্মঘট

কুমিল্লা শহরে পরিবহণ সংকটের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শহরের বাস মালিকদের বৃহৎ সংগঠন কুমিল্লা বাস মালিক সমিতি বৃহস্পতিবার থেকে নগরীর প্রায় ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বাস চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। এটি কার্যত পরিবহণ ধর্মঘটের প্রাক-হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ধর্মঘটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আইদি পরিবহণ। জাঙ্গালিয়া বাস টার্মিনাল থেকে কুমিল্লা-চাঁদপুর সড়কের সার্ভিস বন্ধ রাখার দাবিতে পরিবহণ মালিকরা এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। পরিবহণ নেতারা দাবি করেছেন, শহরের জাঙ্গালিয়া, শাসনগাছা ও চকবাজার বাস টার্মিনাল থেকে কুমিল্লা-চট্টগ্রাম, কুমিল্লা-সিলেট, কুমিল্লা-ঢাকা, কুমিল্লা-চাঁদপুরসহ অভ্যন্তরীণ প্রায় ৪০টি রুটে কয়েক হাজার বাস ও মিনিবাস চলাচল করে।

আইদি পরিবহণের চেয়ারম্যান মীর পারভেজ আলম অভিযোগ করেছেন, চাঁদপুর জেলা প্রশাসক থেকে অনুমতি নিয়ে তারা চলাচল শুরু করলে কুমিল্লার বাস মালিকরা শুরু থেকেই বাধা প্রদান করেছেন। ফলে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন রুট পারমিট দেয়নি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে বাধ্য হয়ে তারা জাঙ্গালিয়া বাস টার্মিনাল থেকে সার্ভিস বন্ধ করে পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড থেকে বাস চালাচ্ছেন।

মীর পারভেজ আরও জানান, “মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) কিছু বাস জাঙ্গালিয়া টার্মিনালে আনা হলে শ্রমিক নেতারা বাধা দেন। এখন তারা ধর্মঘটের হুমকি দিচ্ছেন। আইনি কোনো বাধা না থাকলেও জেলা প্রশাসন থেকে অনাপত্তিপত্র দেওয়া হচ্ছে না।”

কুমিল্লা বাস মালিক সমিতির বক্তব্য:

পদবিবক্তব্য
কার্যকরী সভাপতি মো. তাজুল ইসলামআইদি পরিবহণ চাঁদপুর থেকে পারমিট পেয়েছে, কিন্তু কুমিল্লা থেকে রুট-পারমিট পায়নি। কিছু বাস টার্মিনালে আনা হলে আমরা সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ রাখব। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছি।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাফর সাদিক জানিয়েছেন, প্রশাসন আইদি পরিবহণকে বিকল্প স্থানে, পদুয়ারবাজার থেকে বাস চালানোর নির্দেশ দিয়েছে। আদেশ না মানলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিবহণ ধর্মঘট বাস্তবায়িত হলে শহরের প্রায় ৪০টি সড়কে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা শহরের যাত্রী চলাচলে বিশাল সমস্যা সৃষ্টি করবে। পরিস্থিতি তত্ত্বাবধানে রাখতে জেলা প্রশাসন দুইপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে যাচ্ছে।