কুমিল্লায় মন্দির ও মসজিদে হাতবোমা হামলা: আহত ৩

কুমিল্লা মহানগরীর ঠাকুরপাড়া এলাকায় একটি মন্দিরে পূজা চলাকালীন দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হাতবোমা হামলায় পুরোহিতসহ অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গত শনিবার সন্ধ্যায় নগরের ঠাকুরপাড়া কালীগাছতলা মন্দির এবং পার্শ্ববর্তী বাগানবাড়ি মসজিদ এলাকায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঠাকুরপাড়া কালীগাছতলা মন্দিরে ‘শনি পূজা’ চলছিল। ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে পূজা চলাকালীন হঠাৎ তিনজন অজ্ঞাতপরিচয় যুবক মন্দিরের ভেতরে মণ্ডপ লক্ষ্য করে হাতবোমা ছুড়ে মারে। এ সময় মন্দিরের প্রধান পুরোহিত কেশব চক্রবর্তী উপস্থিত বুদ্ধিতে একটি লাঠি দিয়ে বোমাটি সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে সেটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় পুরোহিত রক্তাক্ত জখম হন।

হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় বাগানবাড়ি মসজিদের সামনে আরও দুটি হাতবোমা নিক্ষেপ করে। এতে মসজিদে নামাজ পড়তে আসা সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আরও দুইজন আহত হন। পালিয়ে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা মন্দিরের সামনে একটি রহস্যময় সাদা ব্যাগ ফেলে রেখে যায়, যা বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।

প্রশাসনিক তৎপরতা ও বর্তমান অবস্থা

ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান, কুমিল্লা র‍্যাবের অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম এবং জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। নিরাপত্তা নিশ্চিতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, ব্যাগটির ভেতর বিস্ফোরক থাকার আশঙ্কায় সেটি পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়েছে। ঢাকা থেকে বোম ডিসপোজাল ইউনিট আসার পর সেটি খোলা হবে। প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং দোষীদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

আহতদের তথ্য

হামলায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের বর্তমান অবস্থা স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে।

আহতের নামপরিচয়আহতের স্থান
কেশব চক্রবর্তীপুরোহিত, কালীগাছতলা মন্দিরমন্দির চত্বর
আবদুল বারেকমুসল্লি, বাগানবাড়ি মসজিদমসজিদের সামনে
অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিস্থানীয় পথচারী/মুসল্লিমসজিদের নিকটস্থ এলাকা

নাশকতার আশঙ্কা ও তদন্ত

পুলিশ প্রশাসনের ধারণা, নির্বাচন-পরবর্তী শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যেই কোনো কুচক্রী মহল এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা চালাচ্ছে। এটি কোনো পরিকল্পিত নাশকতার অংশ কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করছে যাতে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা যায়। স্থানীয় অধিবাসীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন এবং ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।