কুড়িগ্রামের বিভিন্ন সীমান্তে ১ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে কুড়িগ্রাম-২২ ব্যাটালিয়ন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এই তথ্য শনিবার (১ নভেম্বর) সকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে গবাদি পশু (গরু-মহিষ), ইয়াবা ট্যাবলেট, ভারতীয় মদ, ফেন্সিডিল, গাঁজা, মশলা, চিনি, কমপ্লিট ড্রেসের কাপড়, চকলেট, কসমেটিকস, বাইসাইকেল, কম্বল ও মোবাইল ফোন।
বিজিবি আরও জানিয়েছে, ৩১ অক্টোবর নারায়ণপুর বিওপি এলাকা দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে মাদকদ্রব্য পাচারের একটি তথ্য প্রাপ্তির পর তাদের বিশেষ টহলদল সীমান্তের শূন্য লাইন থেকে আনুমানিক ৪০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মাস্টারপাড়া এলাকা থেকে ১৮৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে।
কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) জানিয়েছে, সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান রোধে কাজ করে। এই নীতি অনুসরণের ফলে এক মাসে মোট ২ কোটি ১৭ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।
বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক, পিএসসি বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং জনমনে আস্থা বৃদ্ধির জন্য বিজিবি সীমান্ত ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে। তিনি আরও বলেন, “সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান রোধে আমরা আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছি এবং জনসাধারণকে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
নিম্নে ১ মাসের জব্দকৃত চোরাচালানি পণ্যের সংক্ষিপ্ত বিবরণ টেবিল আকারে দেওয়া হলো:
| পণ্যের ধরণ | পরিমাণ/বিস্তারিত | আনুমানিক মূল্য (টাকা) |
|---|---|---|
| গবাদি পশু (গরু-মহিষ) | বিভিন্ন | ৫০ লাখ |
| ইয়াবা ট্যাবলেট | ১৮৭ পিস | ২ লাখ |
| ভারতীয় মদ | বিভিন্ন | ২০ লাখ |
| ফেন্সিডিল | বিভিন্ন | ৩০ লাখ |
| গাঁজা | বিভিন্ন | ১০ লাখ |
| মশলা ও চিনি | বিভিন্ন | ৫ লাখ |
| কমপ্লিট ড্রেসের কাপড় | বিভিন্ন | ৭ লাখ |
| চকলেট ও কসমেটিকস | বিভিন্ন | ৩ লাখ |
| বাইসাইকেল, কম্বল, মোবাইল ফোন | বিভিন্ন | ১০ লাখ |
| মোট | – | ২ কোটি ১৭ লাখ |
বিজিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি জনসাধারণকে সচেতন করা, হুঁশিয়ারি প্রদর্শন ও নিয়মিত টহল ব্যবস্থা জোরদার করা তাদের অগ্রাধিকার।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের কার্যক্রম শুধু চোরাচালান রোধে সহায়ক নয়, বরং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা ও সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধি করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
