কুড়িগ্রামের দুর্ভাগ্যজনক অগ্নিকাণ্ডে ১২টি ঘর পুড়ে ছাই

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়াল ডাঙা ইউনিয়নে শনিবার সন্ধ্যায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ পরিবারের অন্তত ১২টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এই অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মূল্যমানের আসবাবপত্র, নগদ অর্থ ও অন্যান্য মালামাল ধ্বংস হয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও চর গতিয়াসাম গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম জানান, শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে হঠাৎ ধোঁয়ার দেখা দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন দাউদাউ করে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিবারের লোকজন বাঁচার জন্য চিৎকার করতে থাকে। স্থানীয়রা চেষ্টা করলেও আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে রাজারহাট ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা ধারণা করছেন, বৈদ্যুতিক শটসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান জানান, প্রশাসন বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রাথমিক সহায়তা হিসেবে কম্বল ও খাবার বিতরণ করেছে। আগামী রোববার তারা পুনরায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আরও সরকারি সহায়তা প্রদান করবেন।

পাঁচটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তথ্য নিম্নে সংক্ষেপে দেওয়া হলো:

ক্রমিকপরিবারক্ষতিগ্রস্ত ঘরক্ষয়ক্ষতির আনুমানিক মূল্য (টাকা)মন্তব্য
হানিফ আলী পরিবার৭,৫০,০০০ঘর ও আসবাবপত্র পুড়ে ছাই
জহির উদ্দিন পরিবার৫,০০,০০০নগদ অর্থ ও আসবাব ধ্বংস
মান্নান আলী পরিবার৪,৫০,০০০বৈদ্যুতিক শটসার্কিটের সম্ভাব্য আগুন
রবিউল ইসলাম পরিবার৮,০০,০০০অগ্নিকাণ্ডে ঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস
শফিকুল ইসলাম পরিবার৫,০০,০০০পরিবারের সদস্যরা নিরাপদে বাইরে বেরিয়েছে

এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিযোগ, তারা দ্রুত সরকারি সহায়তা পাবার অপেক্ষায় রয়েছেন। স্থানীয়রাও পুনর্বাসন ও পুনর্নির্মাণে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি জানিয়েছেন।

রাজারহাট উপজেলা প্রশাসন বলেছে, প্রাথমিক সহায়তার পর আগামী কয়েকদিনে পরিবারগুলোকে আর্থিক ও খাদ্যসহায়তার পাশাপাশি পুনর্নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।