যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তি স্থাপনের উদ্দেশ্যে ১৫ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। যদিও পুরো তালিকা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়নি, মার্কিন ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এর মূল শর্তগুলো উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের আলোকে দেখা যাচ্ছে, প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশের প্রভাব কমানো।
ইরানের প্রধান শর্তসমূহ
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রধান শর্তগুলো নিম্নরূপ:
| শর্ত ক্রম | শর্তের বিবরণ |
|---|---|
| ১ | ইরানের নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনা সম্পূর্ণ বন্ধ ও ধ্বংস করতে হবে। |
| ২ | সব পারমাণবিক কর্মকাণ্ডে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর পূর্ণ তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। |
| ৩ | মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীকে (প্রক্সি) অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা দেওয়া বন্ধ করতে হবে। |
| ৪ | বিদ্যমান সব পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে হবে। |
| ৫ | কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জনের চেষ্টা না করার লিখিত অঙ্গীকার দিতে হবে। |
| ৬ | ইরানের ভূখণ্ডে পারমাণবিক উপাদান সমৃদ্ধ করা যাবে না; বর্তমান সব উপাদান আইএইএর কাছে হস্তান্তর করতে হবে। |
| ৭ | কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ সব সময় উন্মুক্ত রাখতে হবে ও এটি ‘মুক্ত সামুদ্রিক এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। |
| ৮ | ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ও পাল্লা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে হবে, যা কেবল আত্মরক্ষার জন্য ব্যবহার করা যাবে। চূড়ান্ত সীমা ভবিষ্যতে নির্ধারণ হবে। |
ইরানের জন্য সম্ভাব্য সুবিধা
যদি ইরান এই শর্তগুলো মেনে নেয়, তবে প্রস্তাব অনুযায়ী তারা নীচের সুবিধাগুলো পাবে:
| সুবিধা ক্রম | সুবিধার বিবরণ |
|---|---|
| ১ | বুশেহর শহরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বেসামরিক পারমাণবিক প্রকল্প গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে। |
| ২ | ইরানের ওপর থাকা সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। |
| ৩ | ভবিষ্যতে আর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার নিশ্চয়তা দেওয়া হবে। |
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলাকালীন এক মাসের জন্য একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে। তবে হোয়াইট হাউস বা ইরান সরকার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাব বা সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে এবং পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা রোধে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। ইরানের শর্ত মানার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রভাবও এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের সময় বিবেচনায় নিতে হবে। তাই বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই প্রস্তাব ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যত নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
