ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য মাংস সরবরাহের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৭৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে উধাও হয়ে গেছে একটি কথিত সমবায় সমিতির পরিচালকরা। বগুড়া শহরের মালগ্রাম চাপড়পাড়া এলাকায় সংঘটিত এই ঘটনায় অন্তত ১,২০০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, মালগ্রাম নতুনপাড়া এলাকার আব্দুল হাকিম, আকরাম ও শাহিন নামের তিন ব্যক্তি ‘ফোর স্টার বিজনেস সমবায় সমিতি’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। তারা সাধারণ মানুষের কাছে আকর্ষণীয় প্রস্তাব দেন—সারা বছর সাপ্তাহিক কিস্তিতে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জমা রাখলে ঈদের আগে প্রতিটি সদস্যকে নির্দিষ্ট পরিমাণ গরুর মাংস সরবরাহ করা হবে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই এই প্রলোভনে সাড়া দেন।
সমিতির সদস্যদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতি কার্ডের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৫ হাজার টাকা। অনেক পরিবার একাধিক কার্ড নেওয়ায় মোট জমার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৭৭ লাখ টাকা। প্রাথমিকভাবে ১৫ মার্চ মাংস বিতরণের দিন নির্ধারণ করা হলেও পরে তা ১৭ মার্চে পিছিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত দিনেও সমিতির কোনো প্রতিনিধিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। অফিস বন্ধ এবং সংশ্লিষ্টদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ভুক্তভোগী পারুল আক্তার জানান, “সারা বছর কষ্ট করে প্রতি সপ্তাহে অল্প অল্প করে টাকা জমিয়েছি। ভেবেছিলাম ঈদে পরিবারের জন্য ভালো কিছু করতে পারব। এখন সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে।” একইভাবে আখলি বেগম বলেন, “১০-১২ কেজি মাংস পাওয়ার আশা ছিল। এখন শুনছি তারা পালিয়ে গেছে। ঈদে কীভাবে চলব, বুঝতে পারছি না।”
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আগে থেকেই প্রশাসনিক নজরদারি প্রয়োজন ছিল। অনেকেই অভিযোগ করেন, সমিতিটি নিবন্ধিত কিনা বা তাদের কার্যক্রম বৈধ কিনা—এসব বিষয়ে কেউ যাচাই করেননি।
ঘটনার পর সমিতির কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে এবং অভিযুক্তদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে স্টেডিয়াম ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীদের আনুষ্ঠানিকভাবে থানায় অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিম্নে ঘটনাটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| সমিতির নাম | ফোর স্টার বিজনেস সমবায় সমিতি |
| অবস্থান | মালগ্রাম চাপড়পাড়া, বগুড়া |
| অভিযুক্ত ব্যক্তি | আব্দুল হাকিম, আকরাম, শাহিন |
| মোট ভুক্তভোগী পরিবার | প্রায় ১,২০০ |
| প্রতি কার্ডের মূল্য | ৫,০০০ টাকা |
| মোট অর্থের পরিমাণ | আনুমানিক ৭৭ লাখ টাকা |
| প্রতিশ্রুতি | ঈদে ১০–১২ কেজি মাংস সরবরাহ |
| নির্ধারিত বিতরণের তারিখ | ১৫ মার্চ (পরে ১৭ মার্চ) |
ভুক্তভোগীরা দ্রুত তাদের সঞ্চিত অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এবং প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা রোধে কঠোর নজরদারি ও সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন।
